হোম ফিচার সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের কথিত সাধারন সম্পাদকের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ

সংকল্প ডেস্ক :

ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পাতানো নির্বাচনে কথিত সাধারণ সম্পাদকের বিবৃতি আমদানি কারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে ভোমরা বন্দরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে আমদানি কারক ও সাধারণ সিএন্ডএফ এজেন্ট এর কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। ইতোমধ্যেই ওপারে চাঁদাবাজির কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই বন্দর ত্যাগ করতে শুরু করেছে। যার কারণে গত অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বন্দর ব্যবহারকারীরা মনে করে যে, এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওপারের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ভাগ আদায় করার অশুভ উদ্দেশ্য ছাড়া কিছুই নয়।

প্রকৃত ঘটনা এই যে, ওপারে সিরিয়ালের নামের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ভোমরা স্থল বন্দরের ৮ টি সংগঠনের যৌথ সিদ্ধান্তে তিন দিনব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি ও খন্ডকালীন কর্মবিরতি পালিত হয়। এবং আন্দোলন কর্মসূচি সফল করতে সিএন্ডএফ এজেন্ট রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীকে আহ্বায়ক করে দশ সদস্য বিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

গত ২৭ জানুয়ারী আন্দোলন চলমান অবস্থায় ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের বিগত আহ্বায়ক কমিটির সাথে ঘোজাডাঙ্গা সিএন্ডএফ এজেন্ট ও কার্গো অ্যাসোসিয়েশন এর কর্মকর্তাদের যৌথ বৈঠকে ফলপ্রসু আলোচনা শেষে আন্দোলনের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

যার ফলশ্রুতিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি কমে যায়। কিন্তু মার্চ মাসে আবারো সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি শুরু হয়। গত ৩১ মার্চ বিগত আহ্বায়ক কমিটির চারজন সদস্য যুক্ত স্বাক্ষরে সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য ঘোজাডাঙ্গা সিএন্ডএফ এজেন্ট ও কার্গো এসোসিয়েশনের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠায়। বিগত আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ নিলে সাতক্ষীরার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বাধার সম্মুখীন হন। যাহা ভোমরার অধিকাংশ আমদানিকারক ও সি এন্ড এফ এজেন্ট অবগত রয়েছে।

পরবর্তীতে পাতানো নির্বাচনে বিএনপি ও হাইব্রিড দুই সিএন্ডএফ এজেন্টকে সভাপতি সম্পাদক করে নয় সদস্য বিশিষ্ট বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়।
বর্তমান কমিটি সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের লক্ষ্যে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না নিয়ে ভোমরা বন্দরকে ধ্বংসের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

এমনকি কথিত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান গত ২৫ জানুয়ারি গঠিত ১০ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটির সাথে বর্তমান কার্য নির্বাহী কমিটির মত বিনিময় করার জন্য চিঠি প্রেরণ করেন। গত ১৮ জুলাই ছিল ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে বিগত সমন্বয় কমিটির যৌথ বৈঠক। কিন্তু ওই চিঠির ভাষা ছিল যথেষ্ট বিতর্কিত।

ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কথিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ব্যবসায়িক পরিপন্থী ভূমিকার কারণে যৌথ সভায় কেউ উপস্থিত হয়নি। বিগত সমন্বয় কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, সিরিয়ালের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীতে যৌথ সভা করে ওপারের চাঁদার টাকার ভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। এমনকি কার্য নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ কর্মকর্তা একই অভিমত ব্যক্ত করেন। যার কারনে কথিত সাধারন সম্পাদকের চিঠিতে কেউ সাড়া দেয়নি। ফলে গত ১৮ জুলাই যৌথ সভা ভেস্তে যায়। তাছাড়াও বিগত আহ্বায়ক কমিটির সময় গঠিত সমন্বয় কমিটির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হওয়ার সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অথচ বিগত সমন্বয় কমিটির সাথে যৌথ সভার আহ্বান ব্যবসায়ীদের সাথে তামাশা ছাড়া কিছুই না।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন