হোম জাতীয় রমনার বটমূলে বোমা হামলা: হাইকোর্টের কার্যতালিকা থেকে বাদ

জাতীয় ডেস্ক :

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল শুনানি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের বিশেষ বেঞ্চ কার্যতালিকা থেকে (আউট অফ লিস্ট) বাদ দিয়েছেন।

এসময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ খান, আশরাফুল হক জর্জ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদা পারভীন ফ্লোরা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির।

আদেশের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন আহমেদ বলেন, ‘এই বিষয়টি দুই বিচারপতির যে বেঞ্চে আংশিক শুনানি হয়েছিল বর্তমানে সেই দুই বিচারপতি এক বেঞ্চে না থাকায় বিশেষ বেঞ্চ হিসেবে আজ তারা বিষয়টি কার্যতালিকা থেকে বাদের আদেশ দিয়েছেন।’

এদিন সকালে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে দেখা যায়, বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের বিশেষ বেঞ্চে বিষয়টি আজ বিকেল ৪ টা থেকে ৪ টা ১৫ মিনিটে শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল।

এর আগে গত ২৩ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেষবারের মতো সময় দিয়ে রমনায় বোমা হামলার মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন ও আপিল শুনানির দিন পিছিয়ে দেন আদালত।

মামলায় বিচারিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই ও মাওলানা শফিকুর রহমান।

এর মধ্যে সিলেটে গ্রেনেড হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়া মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন ও মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, মাওলানা সাব্বির, শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা ইয়াহিয়া ও মাওলানা আবু তাহের।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন। এ ঘটনায় নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন