রিপন হোসেন সাজু, মণিরামপুর (যশোর) :
রাস্তার উপর টোং ঘর বানিয়ে গবাদি পশুর সাথে এক সাথে চলছে থাকা ও খাওয়া-দাওয়া। শৌচাগার ও টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একই সাথে গো-খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক কাজ সারতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে করে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে ভুক্তভোগি মানুষ।
আকাশ বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বাড়ি-ঘর পানি তলিয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধ ভবদহ বিলপাড়ের হাজারো মানুষ ঠাই নিয়েছে রাস্তার উপর। ভবদহ বিলপাড়ের ৮০ গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
মণিরামপুর সরেজমিন উপজেলার সুজাতপুর, বাজেকুলটিয়া, হাটগাছাসহ একাধিক গ্রাম ঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়ে। ওই এলাকার অধিকাংশ বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে নিমজ্জিত ঘরবাড়ি হারা এসব ভ’ক্তভোগিরা মণিরামপুর-নওয়াপাড়া সড়কের হাটগাছা এলাকার সড়কের উপর টোং ঘর বানিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। একটু অবস্থা সম্পন্ন পরিবার যাতায়াতের জন্য বাড়ির উঠানে বাশের সাঁকো বানিয়ে নিয়েছে। আর অস্বচ্ছল পরিবারগুলো রাস্তার উপর টোং ঘর বানিয়ে গৃহপালিত পশুর সাথে এক সাথে দিনাতিপাত করছে। টোং ঘরের এক পাশে থাকছে গরু-ছাগল আরেক পাশে চৌকি বানিয়ে রাত যাপন করছে। সেখানেই চলছে খাওয়া-দাওয়া।
হাটগাছা গ্রামের নারায়ন মন্ডল, ক্ষুদেরাম বিশ্বাস, গুরুদাস মন্ডল, মালতি বালাসহ একাধিক ভূক্তভোগির সাথে কথা হয়। তারা জানান, আর কতকাল তারা এভাবে কষ্টে দিন যাপন করবেন। ভবদহ দিয়ে পানি সরে গেলে তাদের কষ্টের লাঘোব হবে। কিন্তু কেউ তাদের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে না। এভাবে গরু-ছাগলের সাথে আর কত দিন একসাথে দিন কাটাবে তারা। ।
বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ হাটগাছা গ্রামের নারায়ন চন্দ্র মল্লিক বলেন, খাবার পানির সংকট দেখা দেওয়ায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার মানুষ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বিশুদ্ধ পানির সংকটেরর কথা উল্লেখ করে বলেন, শিঘ্রই অস্থায়ী ভিত্তিতে স্যানিটেশন ও নলকূপ স্থাপন করা হবে। এজন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুততার সাথে অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
