মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি :
যশোরের মণিরামপুরে বিএডিসি’র (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সেচপাম্পের লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম-দূর্নীতির এন্তার অভিযোগ উঠেছে। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুষ দিলে সেচপাম্প স্থাপনে নিয়ম-নীতি নয়-ছয় করে কমে আসে দূরত্ব। সেচপাম্প স্থাপনে একটির সাথে অপরটির দূরত্বের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই ঘুষে তুষ্ট হয়ে মিলছে লাইসেন্স।
নিয়ম মাফিক আবেদনের পরও মাসের মাসের পর বিএডিসির কর্মকর্তাদের দরজায় ধর্ণা দিলেও সন্তষ্ট না করলে মিলে না লাইসেন্স। উপরোন্ত একাধিকার কর্ম-কর্তাদের কাছে একাধিকবার যাওয়ায় অনেককেই শুনতে হয় গালমন্দ। এ নিয়ে ভূক্তভোগি সেচপাম্প লাইসেন্স প্রত্যাশি কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কর্মকর্তারে বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানাযায়, সেচপাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী গভীর নলক’ক-গভীর নলকূপের দূরত্ব ২৬৪০ ফুট, গভীর নলক’প থেকে অগভীর নলক’পের দূরত্ব ১৬৪০ ফুট এবং অগভীর-অগভীর নলক’পের দূরত্ব ৮২০ ফুট থাকতে হবে।
গত ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উপজেলায় গভীর, অগভীর ও এলএলপি (ললিপ পাম্প)-এর লাইসেন্সের জন্য এক হাজার ২৫ জন কৃষক আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্স পান ৩৬১ জন কৃষক। এরমধ্যে গভীর নলকূপের লাইসেন্স পান ১৫ জন এবং ললিপ পাম্পের লাইসেন্স পান ১৭ জন কৃষক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের নাদড়া গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে মশিয়ার রহমান এবং মৃত মজের মোড়লের ছেলে মোমিন মোড়র প্রায় একই সাথে অগভীর নলক’পের জন্য আবেদন করেন। আব্দুল মোমিন নিয়মানুযায়ী ৭১ নং মৌজার ৮১৬ নং দাগের জমিতে এবং মশিয়ার একই মৌজায় ৭১ নং দাগ উল্লেখ করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নিয়মানুযায়ী দূরত্ব কম হওয়ায় গত ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপজেলা সেচ কমিটির সভায় তাদের দুইজনের আবেদন বাতিল হয়। এর ঠিক ৮ মাস পরে মশিয়ার রহমান ওই একই মৌজা ও দাগের জমিতে উপজেলা বিএডিসি’র প্রকৌশলী সোহেল রানা এবং উপসহকারি প্রকৌশলী অন্তু সাহাকে তুষ্ট করে দূরত্ব বেশি দেখিয়ে গত ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলার সেচ কমিটির সভায় তার আবেদন অনুমদোতি হলে তিনি লাইসেন্স পান।
মোমিন মোড়ল বলেন, দূরত্ব কম হওয়ায় তিনি লাইসেন্স পাননি কিন্তু মশিয়ার রহমান বিএডিসি অফিসের যোগসাজসে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে ফের দূরত্ব বেশি দেখিয়ে লাইসেন্স পেয়েছেন। একইভাবে ওহায়েদ আলী দূরত্ব কম হলেও গভীর নলক’পের লাইসেন্স পেয়েছেন।
একই গ্রামের বাবুল আক্তার ক্ষোভ করে বলেন, অগভীর লাইসেন্সের জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি গত ২০২১ সালের ২৪ মে লাইসেন্স পান। যার আবেদন নং ২২৯। বিদ্যুৎ সংযোগও চ’ড়ান্ত পর্যায় পৌছে গেলে সহকারি প্রকৌশলী সোহেল রানা তার আবেদন স্থগিত করেন।
জয়পুর গ্যামের আব্দুল গণি মোড়ল বলেন, ২০১৯ সালে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। তিনি সোনালী ব্যাংক,মনিরামপুর শাখায় আবেদনের বিপরীতে অর্থ জমা দেন। পরে বিএডিসি অফিসে গেলে তার আবেদনের কিছুই পাননি। ফের আবেদন করে আজও বিএডিসির দরজায় ধর্ণা দিলেও তাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। গড়ভাঙ্গা গ্রামের আব্দুর উফ মাস্টার বলেন, ১৭৬০ ফুটের মধ্যে দুইটি গভীর নলক’প থাকলেও বিএডিসি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওই দুই গভীর নলক’পের মাঝে আরও একটি গভীর নলকূপের লাইসেন্স দিয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও তিনি প্রতিকার পাননি বলে জানান।
মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা বিএডিসি’র অফিসের দায়িত্বে থাকা সহকারি প্রকৌশলী সোহেল রানা ও উপ-সহকারি প্রকৌশলী অন্তু কুমার সাহা অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম মেনেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
