হোম অন্যান্যসারাদেশ পৃথিবীতে এসেই খাদ্যের অভাবে জমজ তিন শিশু,সন্তানের খাবার যোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে পরিবার

পৃথিবীতে এসেই খাদ্যের অভাবে জমজ তিন শিশু,সন্তানের খাবার যোগাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে পরিবার

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 181 ভিউজ

জসিম উদ্দিন:
সদ্য ভুমিষ্ট যমজ ৩ নবজাতককে নিয়ে মহা বিপাকে পরেছে ইপিজেড শ্রমিক মোস্তাকিন শেখ। তিন সন্তানের জন্মদিয়ে শারিরিক ভাবে খুবই অসুস্থ মা লাবনী আক্তার। যময শিশু তিনটি পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় চরম পুষ্টিহীনতায় ভূগছে। তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও দুধ জোগার করতে বাবা মোস্তাকিন শেখ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অভাব অনটনের সংসারে নিজেদের খাবারই যেখানে জোটে না, সেখানে সন্তানদের মায়ের চিকিৎসা ও সন্তাদের বিকল্প খাবার যোগার করতে ইতোমধ্যেই অনেক টাকা ধার— দেনা করেছেন মোসÍাকিন । এখন চরম বিপর্যয়ে পরিবারটি।
জানাযায়, বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চাঁদপাই গ্রামের চাঁপরার মোড় এলাকার ওসমান শেখ ছেলে মোস্তাকিন শেখ। সাত বছর আগে সোনাইলতলা কৃষক পরিবারের মেয়ে লাবনী খাতুনকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই মোংলা ইপিজেড এ শ্রমিকের কাজ করে স্ত্রী ও পিতা মাতাকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন সে। শাহনাজ নামে তার ৫ বছরের একটি মেয়ে আছে। এরপর গেল ১ ডিসেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে মোস্তাকিনের স্ত্রী লাবনী সিজারের মাধ্যমে জন্মদেন একসঙ্গে তিনটি পুত্র সন্তান।
নবজাতক তিন সন্তানের নাম রাফিউল ইসলাম, রিয়ান ইসলাম ও রাফসান ইসলাম। সিজারে জন্ম নেওয়া নবজাত তিন শিশু ও তাদের মা অসুস্থ থাকায় মা ও শিশুদের কয়েক দফায় চিকিৎসা করিয়েছেন এই অসচ্ছল বাবা। এজন্য আত্মীয়—স্বজনদের কাছ থেকে ধারও নিতে হয়েছে তাকে। এখন তিন শিশুর জন্য প্রতিদিন ১৫০০ টাকার দুধ প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক অনটনে সেটিও পারছেনা মোস্তাকিন শেখ। শিশুদের খাবার সংগ্রহের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি।
প্রতিবেশী তৈয়ব আলী জানান, মোস্তাকিন অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তার ঘরে সৃষ্টি কর্তা ফুটফুটে তিনটি সন্তান দিয়েছে। কিন্তু তার তো সন্তানদের খাওয়ানোর মতো টাকা নেই।এখন সে এখন অনেক কষ্টে দিন যাপন করছে। বাচ্চাদের খাওয়ানোর মতো টাকা তার নেই।
মোস্তাকিনের স্ত্রী ও জমজ তিন শিশুর মা লাবনী খাতুন বলেন, আমার স্বামীর যে আয় হতো তা দিয়ে আমাদের সংসার চলতে কষ্ট হতো। তাছাড়া খুলনা সদর হাসপাতালে অনেক দিন ভর্তি ছিলাম আমি ও বাচ্চারা। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আমারা অনেক দেনা হয়েছি। আত্মীয়—স্বজন ও প্রতিবেশীরা যারা আছে তাদের কাছ আর্থিক সহায়তা নিলেও এখন বাচ্চাদের জন্য দুধ জোগাড় করতে পারি না। তিনজন বাচ্চার জন্য প্রতিদিন এক হাজার ৫শ টাকার
দুধ কিনতে হয়। আমরা খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকটি সহায়তার জন্য একটি আবেদন করেছি। উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে তিনটি কোটা দুধ কিনে দিয়েছে। এর পর আর কোন কিছু জানায়নি। তবে স্থানীয় কিছু বৃত্তবান মানুষ কিছু দুধ কিনে দিয়েছেন তা দিয়ে তিন মাস অতিবাহিত করেছি।
জমজ শিশুদের দাদা, ওসমান শেখ জানান, আমি বৃদ্ধ মানুষ কোন কাজ করতে পারিনা। আমার স্ত্রী ও অসুস্থ এমন অবস্থায় ছেলের ঘরের তিন জমজ নাতীকে নিয়ে আমরা বিপদে আছি। আমরা সরকারের সহায়তা চাচ্ছি।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.তরুন কান্তি জানান, শিশু তিনটি জন্মগতভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। নবজাতকদের মাও অসুস্থ। এখন পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় মা—শিশুদের বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তিনটি বাচ্চা হওয়ায় মায়ের পর্যাপ্ত দুধ হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে তাদের ফর্মুলা মিল্ক কিনে খাওয়াতে হবে।
মোংলা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা জানান, মোংলা ইপিজেড শ্রমিক মোস্তাকিন ও লাবনী দম্পতির ঘরে জমজ তিনটি পুত্র সন্তান হয়েছে। তারা অত্যন্ত গরিব মানুষ। আমরা খবর নিয়েছে তাদের সহায়তার চেষ্টা করছি। তবে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা তাদের সহায়তা করা উচিত। নতুবা ভবিষ্যত অন্ধকার হয়ে পড়বে তিন নবজাতকের।
উল্লেখ্য,খুলনা ২৫০ বেড হাসপাতালে ১ ডিসেম্বর মোস্তাকিন শেখ এর স্ত্রী লাবনী খাতুন সিজারের তিন যমজ পুত্র সন্তান জন্মদেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন