হোম অন্যান্যসারাদেশ মণিরামপুরে ইউএনও এবং ওসি’র হস্তক্ষেপে গৃহবন্দি দু’ভাই মুক্ত

মণিরামপুর( যশোর) প্রতিনিধি :

অবশেষে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান এবং থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে বখতিয়ার ও বজলুর রহমান দু’ভাই বন্দিদশা থেকে মুক্ত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তাদের পাঁচ ভাই-বোনের দ্বন্দের অবসান ঘটিয়ে দু’ভাইয়ের বসতবাড়ি ঘিরে রাখা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলার খাটুয়াডাংগা গ্রামের মৃত. সামাদ বিশ্বাসের ছেলে বখতিয়ার ও বজলুর রহমানের বাড়ি থেকে বের হবার সকল পথ বন্ধ করে দেয় অপর তিন ভাই-বোন। তাদের এ বন্দিদশা চলে গত তিনটি মাস। প্রথম পর্যায়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও সমাধান দিতে পারেননি পুলিশ। শেষ পর্যন্ত এ পরিবারটিকে নিয়ে পত্রিকায় শিরোনাম হয়।

এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট সমাধান চেয়ে আবেদন করেন। মঙ্গলবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফেয়ার নিউজ সার্ভিস (এফএনএস) পত্রিকায় “ মণিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধে দু’পরিবার তিন মাস গৃহবন্দি” শিরোনামে স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে টনকনড়ে প্রশাসনের।

পরদিন বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান এবং থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল খাটুয়াডাংগা গ্রামে পরিদর্শনে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয় নিয়ে তাদের পাঁচ ভাই-বোনকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে তাদের পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিসহ সেই বসতবাড়ি ঘিরে রাখা সকল বেড়া উঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান তারা। এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওসি রফিকুল ইসলাম এ মিমাংসায় সভায় উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপর দায়িত্ব দিয়েই তাদর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, তাদের পারিবারিক দ্বন্দের মিমাংসা করে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রিজাউল করিম ওই বাড়িতে উপস্থিত থেকেই ঘিরে রাখা বেড়াগুলো উচ্ছেদ করবেন।

উল্লেখ্য, ওই গ্রামের মৃত. সামাদ বিশ্বাসের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে মোট ২৮ শতক জমির উপর তাদের বসতভিটা। ভাই-বোনের দ্বন্দ্বে তিন ভাই-বোন মিলে অপর দু’ভাইকে বাড়ি থেকে বের হবার সকল পথগুলো বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় তাদের জীবন চলে গত তিনটি মাস।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন