জাতীয় ডেস্ক :
নোকিয়া এখন বাংলাদেশের ফোন। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে স্থাপিত কারখানায় স্মার্টফোন উৎপাদন করছে ফিনল্যান্ড ভিত্তিক এই বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডটি। যেখানে বছরে উৎপাদিত হবে বিভিন্ন মডেলের ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে নোকিয়া যাবে বিশ্ববাজারেও।
এক দশক আগেও দেশে মুঠোফোন মানেই ছিল নোকিয়ার প্রচলন। ফিনল্যান্ডের এই ব্র্যান্ডকেই ধরা হত আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও। কিন্তু প্রযুক্তির রূপান্তরের প্রতিযোগিতায় একসময়ের সাম্রাজ্য হারিয়ে ফেলে নোকিয়া।
ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলায় আবারও ফিরে এসেছে সেই নোকিয়া। তাও আবার বাংলাদেশের পণ্য হিসেবে। এ বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আমি লন্ডনের মাটিতে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নিয়ে ব্যান্ডিং করতে পেরেছি। কিন্তু গল্পটা তো একদিনে তৈরি হয় নি।
গল্পের শুরুটা ছিল ২০১৫ সালে। সে বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনকারী থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক ৫৭ শতাংশের বিপরীতে উৎপাদনে শুল্ক ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার। একই সাথে দেশে শতাধিক হাইটেক ও আইটি পার্কে কারখানা স্থাপনে দেওয়া হয় ১০ বছরের কর অব্যাহতিসহ নানা সুযোগ সুবিধা।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্ব বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে আসুক। হাইটেক পার্কগুলোকে তাদের ফ্যাক্টরি সেট আপ করুক। অপরদিকে চাই বাংলাদেশের ওয়ালটন এবং সিম্ফোনি সারা বিশ্বের বাজার দখল করুক।
বিশাল বাজার ও অবকাঠামোর সুবিধা নিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে পাঁচ একর জায়গার মধ্যে কারখানা স্থাপন করেছে নোকিয়া। বর্তমানে ৩৫০ কর্মীর মাধ্যমে ৮টি লাইনে হ্যান্ডসেট সংযোজন এবং ৪টি লাইনে প্যাকেজিং হচ্ছে। প্রতি মাসে উৎপাদন হচ্ছে আড়াই লাখ হ্যান্ডসেট। আসছে জানুয়ারি থেকে উৎপাদিত হবে ফিচার ফোনও।
এ বিষয়ে ভাইব্র্যান্ট সফটওয়্যার লিমিটেডের হেড অব বিজনেস ডেভলপমেন্ট নাউফ হাসান রিতুন বলেছেন, এখন আমরা শুধু মোবাইল ফোন এবং ট্যাবলেট ফোন উৎপাদন করছি। আগামী বছরের শুরুতে আমাদের পরিকল্পনা আছে, নকিয়ার টেলিভিশন এবং অন্যান্য এক্সেসরিজ তৈরি করব।
ইতোমধ্যে হাইটেক সিটিতে উৎপাদিত জি-১০ মডেলের স্মার্টফোন বাজারে এসেছে। এসব হ্যান্ডসেট আমদানিকৃত ফোনের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে।
স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্বপ্ন এখন রপ্তানি বাজারে গাজীপুরের হ্যান্ডসেট নিয়ে যাওয়ার। এসব জায়ান্ট ব্র্যান্ডের হাত ধরেই ২০২৫ সালের মধ্যেই প্রযুক্তি খাতে পাঁচ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।
