হোম অন্যান্যসারাদেশ প্রগতি ডিজিটাল ক্লিনিকে ভুয়া আল্ট্রসনোগ্রাফ মনিরামপুরে ভুল অপারেশনে মৃত্যুশয্যায় গৃহবধূ

প্রগতি ডিজিটাল ক্লিনিকে ভুয়া আল্ট্রসনোগ্রাফ মনিরামপুরে ভুল অপারেশনে মৃত্যুশয্যায় গৃহবধূ

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 217 ভিউজ

মনিরামপুর( যশোর)প্রতিনিধি :

মনিরামপুরে প্রগতি ডিজিটাল রিজু হসপিটাল নামক একটি ক্লিনিকে ভুয়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট তৈরী করে অর্থ হাতানোসহ এক গৃহবধূকে ভুল অপারেশনের অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকের কথিত মালিক ও ম্যানেজারের যোগসাজসে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার কারণে বর্তমানে ওই গৃহবধূ ঘরের বিছানায় মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তার স্বামী যশোর সিভিল সার্জন, মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উপজেলা সুবোলকাটি গ্রামের জুলফিক্কার ঢালীর স্ত্রী ৪ সন্তানের জননী তাসলিমা বেগম (৪৫) এর হঠাৎ পেটে ব্যাথায় শুরু হলে গত ২২ জুন তাকে নেয়া হয় পৌর শহরের মোহনপুর বটতলা নামক স্থানে অবস্থিত প্রগতি ডিজিটাল ক্লিনিকে। এরপর ক্লিনিকের ম্যানেজার আবদুল হামিদের সহযোগীতায় ডাক্তার অথবা কোন অভিজ্ঞ না হলেও ক্লিনিকের মালিক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ওই গৃহবধূর ভুয়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি তৈরী করেন।

এক পর্যায় গৃহবধূর স্বামীকে বলা হয় আপনার স্ত্রীর ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষা করে ধরা পড়েছে তার জরায়ু নাড়িতে বড় টিউমার এবং ইনফেকশন হয়েছে। ফলে তাকে দ্রুত অপরাশেন করতে হবে। এমন ভয়-ভীতি দেখিয়ে ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরের দিন তার স্ত্রীর কোমরে পরপর ৩টি অবাশ করা ইনজেকশন পুশ করেন ক্লিনিক মালিক জিন্নাহ নিজেই। এরপর এক কথিত মহিলা ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করা হয়। স্বল্প পুজির কাঠ ব্যবসায়ী জুলফিক্কার ঢালী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন অপারেশন করে তার স্ত্রীকে ওই ক্লিনিক থেকে বাড়ি নেয়ার পর কোমরসহ তার সমস্ত শরীর অবাশ হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।

এরপর খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়ে দুই লক্ষ টাকার বেশী খরচ করলেও স্ত্রীকে সুস্থ্য করতে পারেননি তিনি। দিনদিন সে শুকিয়ে বাড়ির বিছানায় বর্তমানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রগতি ডিজিটাল ক্লিনিকের আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ অন্যান্য কাগজ-পত্র দেখে পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বলেছেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ধোকাবাজি করে আপনাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই ডিজিটাল ক্লিনিকে কয়েক বার অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শুভ্রারাণী দেবনাথ জানান, বন্ধ করার পরেও যদি গোপনে কার্যক্রম চালায় তাহলে ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জানতে চাইলে ওই ঘটনায় অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ আবু শাহীন বলেন, কাগজ-পত্রে নানা অনিয়মের কারণে ইতঃপূর্বে ওই ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। গৃহবধূর ভুল অপারশেনের অভিযোগের বিষয় তদন্তপূর্বক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, ক্লিনিক মালিক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দাবী করেন, অপারেশনের পর গৃহবধূ তাসলিমা বেগমের বিষয়ে কেউ কোন কমপ্লেন করেনি।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন