আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের জৈব অস্ত্র খাতে বিনিয়োগ করছেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন, এমন অভিযোগ তুলেছে রাশিয়া।
মস্কো বলছে, পেন্টাগনের আওতাধীন জৈব গবেষণাগারগুলোতে হান্টার বাইডেনের মালিকানাধীন ইনভেস্টমেন্ট ফার্মের বিনিয়োগ ছিল।
ইউক্রেনের জীবাণু গবেষণাগারগুলো নিয়ে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে। এসব গবেষণাগারে জৈব বা রাসায়নিক অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়ন করছে বলে জোরালো অভিযোগ মস্কোর। এবার অভিযোগের তীর গেল খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের দিকে।
মস্কো বলছে, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দফতর পেন্টাগনের আওতায় থাকা জৈব গবেষণাগারগুলোতে হান্টার বাইডেনের মালিকানাধীন ইনভেস্টমেন্ট ফার্মের বিনিয়োগ ছিল।
বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পেন্টাগন পরিচালিত ওই গবেষণাগার হান্টার বাইডেনের মালিকানাধীন রোসেমন্ট সেনেকার অন্তত ২৪০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল।
ওয়াশিংটন এবং কিয়েভ অবশ্য বরাবরই মস্কোর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উল্টো তারা বলছে, রাশিয়া, ইউক্রেনে রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
এ মাসেই গবেষণাগারগুলোতে সংরক্ষিত উচ্চঝুঁকির প্যাথোজেন বা জীবাণুগুলো ধ্বংস করে ফেলার পরমর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অত্যাধুনিক জৈব অস্ত্র প্রস্তুত ও এ বিষয়ক গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে বিনিয়োগ করছে এ অভিযোগ গত কয়েক বছর ধরে করে আসছে মস্কো। সম্প্রতি দেশটিতে রুশ অভিযান শুরু হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে গবেষণাগার ধ্বংসের নির্দেশ দিয়েছে ইউক্রেনের সরকার।
রাশিয়াকে ঠেকাতে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর জরুরি সম্মেলনে যোগ দিয়ে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পশ্চিমা নেতারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা জোরদারেও সম্মত হয়েছেন বিশ্বনেতারা।
ন্যাটোর সম্মেলনে যোগ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্র এর কড়া জবাব দেবে। শুধু তাই নয়, মস্কোকে এ বিষয়ে বেইজিং অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কোনো সহায়তা করলে চীনের পরিণতিও ভয়াবহ হবে বলে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ ন্যাটোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয় ন্যাটো। স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ায় চারটি যুদ্ধদল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলটেনবার্গ।
তিনি বলেন, জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের দোহাই দিয়ে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। এর আগেও তাদের আমরা এ ধরনের দোষারোপ করতে দেখেছি। ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে তারা (মস্কো) যে অভিযোগ আনছে তা পুরোপুরি মিথ্যা।
