নিউজ ডেস্ক:
সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাসনে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি ঘিরে জাতীয় সংসদে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ তাকে ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা উভয়েই এ মন্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের উচিত জনগণের সমস্যা ও দাবি নিয়ে কথা বলা। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দার মতো বিষয় সংসদে উত্থাপিত হওয়ায় সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে বুধবার (১৭ জুন) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি জানান জামায়াতের এমপি মিজানুর রহমান।
পার্থ বলেন, ‘যদি সত্যিই এসব প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মাইক্রোওভেন দিতে রাজি আছি। প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিং মেশিন আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্দার ব্যবস্থা করলে তার সংসারটাও গুছিয়ে দেওয়া যায়।’
তার এ বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না। তিনি জানান, বাজেট আলোচনায় একজন সদস্য নিজের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতে পারেন। তবে এ ধরনের বিষয় সংসদে না বললেও চলত।
স্পিকার আরও বলেন, মিজানুর রহমান নিজের জন্য নয়, সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাসনে বসবাসকারী সবার জন্যই এসব সুবিধার কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব ও সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
তিনি পার্থকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি যেভাবে একজন সদস্যকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটিও তার জন্য অসম্মানজনক মনে হতে পারে। তিনি নিজের জন্য কিছু চাননি, বরং সবার জন্যই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তাই এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের প্রয়োজন নেই।’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মিজানুর রহমান সবার জন্য একটি সুবিধার কথা বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে কিছু দাবি করেননি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্পিকার ঠিকই বলেছেন, বিষয়টি সংসদে না বলে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে উত্থাপন করা যেত। কিন্তু সেটিকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত মন্তব্য করা কিংবা কিছু দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। উনি তো বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, নিজেই আবার অফারও দিয়ে দিলেন। ওনার কাছে চাইছে নাকি?’
তিনি আরও বলেন, তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে গাড়ি-বাড়িসহ সব নিয়ে আসলেন। আমাদের মানসিকতাগুলো এমন হওয়া উচিত, এখানে দাঁড়িয়ে কারও সম্মানে আঘাত করবো না। আশাকরি সকলেই এ বিষয়ে যত্নশীল হব।
