আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
স্কটল্যান্ডের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ টোয়েন্টি সিক্সে ভিডিও বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়নি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে। যে কারণে সেখানে তাকে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠাতে হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের বৈঠকগুলোতে সশরীরে অংশ নিচ্ছেন না শি জিনপিং। সোমবার জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের উচ্চ-পর্যায়ের অংশে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তবে এতে তিনি কোনো অতিরিক্ত অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেননি: সরকারগুলোকে প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে ও পারস্পরিক আস্থা-সহযোগিতা জোরদার করতে বলেছেন।
নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, আমি যতটা বুঝতে পেরেছি, সম্মেলনের আয়োজকেরা ভিডিও লিংকের মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখেননি।
ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র বলেন, কপ২৬ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতারা সরাসরি অংশ নিয়ে বক্তৃতা দেবে—এমনটিই চেয়েছিল যুক্তরাজ্য। যে কারণে নেতারা ভার্চ্যুয়ালি এতে অংশ নিতে পারেননি। তারা কেবল ধারণকৃত বক্তৃতা কিংবা বিবৃতি দিতে পেরেছেন।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ২৬ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ব্রিটেন। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব লাঘবে তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত ও কার্বন নিঃসরণ শূন্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে চাচ্ছে এই সম্মেলন।
সম্মেলনে শি জিনপিং সরাসরি অংশ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জলবায়ু পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট সশরীরে যোগ না দেওয়ার অর্থ হচ্ছে এই দফা আলোচনায় কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত না চীনারা।
তবে বেইজিং বলছে, অতীতে তারা বেশ কিছু বড় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আর ২০৬০ সাল নাগাদ কার্বন নির্গমন সর্বোচ্চ চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে। ২০৩০ সালে বায়ুশক্তি ব্যবহার করে এক হাজার ২০০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও ২০২৬ সালে থেকে কয়লা ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ করার অঙ্গীকার জানায় চীন।
চীন-মার্কিন নড়বড়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলমান জলবায়ু আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে সামনে চলে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জলবায়ু উষ্ণায়নে সবচেয়ে বড় গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
দুপক্ষের মধ্যে বিস্তৃত সংঘাত থেকে জলবায়ুকে আলাদা করতে ওয়াশিংটনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। সেপ্টেম্বরে জলবায়ু বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জন কেরিকে চীনের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ওয়াং ই বলছিলেন, জলবায়ু সহযোগিতার সুযোগগুলো নষ্ট করে দিতে একটি বাধা রয়েছে।
