হোম ঢাকা চোরাই মোবাইল কিনেই খুন হলেন পিয়াস

চোরাই মোবাইল কিনেই খুন হলেন পিয়াস

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 142 ভিউজ

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর উত্তর মুগদায় কবি নজরুল কলেজের ছাত্র পিয়াস ইকবাল নূরকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিতে কেনা চোরাই মোবাইলের টাকা পরিশোধ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‌্যাব জানায়, অনিক নামে এক কিশোরের কাছ থেকে চোরাই মোবাইল ফোন কেনেন মাহীর। এরপর সময়মতো টাকা পরিশোধ না করায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তা গড়ায় এলাকার দুই কিশোরদলের মধ্যে। ৭ মার্চ দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শুরু হয় মারামারি।

সে সময় উত্তেজিত হয়ে অনিকের বন্ধু রাব্বী পাশের দোকান থেকে জোর করে ছুরি এনে মাহীরের বন্ধু পিয়াসকে বার বার আঘাত করে। এরপর লাঠি-সোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয়রা আহত পিয়াসকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহত পিয়াসের বাবা বাদী হয়ে মুগদা থানায় ছয়জনকে আসামি করে এবং কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় রোববার (১০ মার্চ) রাতে রাজধানীর মুগদা এবং মানিকগঞ্জের হরিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত তিন আসামি খালিদ হাসান (১৮), আরিফ হোসেন (২১) এবং মেহেদী হাসান মিরাজকে (২০) গ্রেফতার করে র‌্যাব। জব্দ করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার মঈন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অনিক চোরাই মোবাইল ফোন কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি অনিকের কাছ থেকে নিহত পিয়াসের বন্ধু মাহির ৪৩০০ টাকা বাকিতে ১টি চোরাই মোবাইল ফোন কেনেন। যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করায় অনিক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে থেকেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গ্রুপিং এবং সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব থাকায় তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এসময় তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অনিক পিয়াস ও শামীমকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য অন্যদের ফোন করে সেখানে আসতে বলেন। অনিকের ফোন পেয়ে খালিদ, আরিফ, মিরাজসহ মামলার অপর আসামি অর্নব মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং খালিদ পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজ থেকে বেসবল খেলার স্টিক নিয়ে আসেন। এ সময় তারা বেসবল খেলার স্টিক ও লাঠি দিয়ে পিয়াস ও শামীমকে নৃশংসভাবে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।

গ্রেফতারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন