অনলাইন ডেস্ক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নির্বাচন নয়, সংস্কার; বা আগে নির্বাচন পরে সংস্কার– বিএনপি কখনও এমন কথা বলেনি। এটি বিএনপিকে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার অথবা বিএনপির কর্মসূচি বুঝতে বা বোঝাতে না পারার সমস্যা। বর্তমানে উচ্চারিত সংস্কারের সব বিষয়ই বিএনপির ৩১ দফায় রয়েছে।’ বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব নির্বাচন প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘বিএনপি সবসময়ই ধ্বংস হয়ে যাওয়া নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার করে নির্বাচন চেয়েছে। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে আমরা ছয় মাসের কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছি। বিএনপি যা চেয়েছিল সেটাই তো এখন আসছে, তাহলে সমস্যা কোথায়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডানপন্থা ও কর্তৃত্ববাদের ক্রম উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এখন দুনিয়াজুড়েই গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন। বিএনপির সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের ঢাকার বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব নিজেই তা উল্লেখ করেছেন। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রে নানা সমস্যা থাকলেও এটাই এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সেরা মতবাদ। তাই গণতন্ত্র রক্ষা এখন একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে আমাদের সামনে এসেছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র বা বহুত্ববাদকে এখন ছড়িয়ে দিতে হবে।’
ভারতীয় গণমাধ্যমের অপপ্রচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া একটা অপতথ্য ও মিথ্যা প্রচারের কারখানা। আমি সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না। আগস্ট অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতীয় মিডিয়ায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম দখলের হুমকিসহ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চলছে সেটা “পাগলের প্রলাপ”। আগস্ট আন্দোলনের পরপরই সংখ্যালঘুদের ওপর কিছু কিছু অন্যায় হলেও তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনও ঘটনা তো ঘটছে না। অথচ ভারতীয় মিডিয়ার হিংসাত্মক প্রচারণা দেখলে মনে হয়, যেন প্রতিদিন এমন ঘটনা ঘটছে।’
ঠাকুরগাঁওসহ দেশজুড়ে গ্রেফতার বাণিজ্য এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ঘাটতির কথা স্বীকার করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘হাসিনার আমলের পুলিশি নিপীড়ন ব্যবস্থার ফলে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের মনোবলে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। দেশজুড়েই আমরা আইনশৃঙ্খলা অবনতির খবর আমরা পাচ্ছি।
‘বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগের সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের আগেই সংস্কারের প্রস্তাব আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়েছি। প্রয়োজনে আরও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ব্যাপারে বলবো।’
দলীয় নেতাকর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির যেসব নেতাকর্মী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং অন্যায় করার, সেসবের বিরুদ্ধে কিছু অভিযুক্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া, বহিষ্কারসহ নানা দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক পয়গাম আলী, সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।