হোম আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্যের ১৮টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ১৮টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 12 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একযোগে জোরালো সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা ‘আইআরজিসি’।

তেহরানের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে তারা আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১৮টি ভিন্ন ভিন্ন মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত সফলতার সাথে একযোগে আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের আইআরজিসির প্রকাশিত অফিশিয়াল বিবৃতি অনুযায়ী জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে তারা মোট ১২টি দূরপাল্লার শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

ইরানের ওপর নতুন করে বিমান হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর বেশ কিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ইরানি সামরিক কমান্ডের দাবি, তাদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর নিখুঁত আঘাতে ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-১৫, এফ-1৬ এবং এফ-৩৫ মডেলের বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।

জর্ডানের এই বড় সামরিক বিমান ঘাঁটিটি ছাড়াও কুয়েতের দুটি বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও অত্যন্ত শক্তিশালী ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ফিফথ ফ্লিট’ বা পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয়টি ছিল ইরানি এলিট ফোর্সের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে এই সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

মূলত গত রাতে মার্কিন বিমান বাহিনী কর্তৃক ইরানের রাজধানী তেহরানের অভ্যন্তরে এক বা একাধিক দফায় চালানো আকস্মিক ও উসকানিহীন বিমান হামলার সরাসরি প্রতিশোধ নিতেই আইআরজিসি এই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং যেকোনো মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ লেগে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: আল জাজিরা

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন