হোম ফিচার ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক পদ ফিরে পাওয়ার রিট খারিজ

তহবিল তচ্ছরূপের কারনে সাধারন সভায় তোপের মুখে সাবেক আহ্বায়ক

সংকল্প ডেস্ক :

তহবিল তচ্ছরূপের অভিযোগে নির্বাচনী সাধারন সভায় ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ স্বপন সাধারন সদস্যদের তোপের মুখে পড়ার একদিন পর তার স্বপদে ফিরে আসার রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট। স্বেচ্ছাচারিতা ও তহবিল তচ্ছরূপের অভিযোগে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের চার জন সদস্য সাবেক আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ স্বপনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও পরবর্তীতে অপসারনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। একই সভায় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মিজানুর রহমানকে আহ্বায়কের স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। উক্ত সিদ্ধান্ত অত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান খুলনার বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের মাননীয় পরিচালক অনুমোদন দেন। রিট পিটিশন খারিজ হওয়ায় মহামান্য হাইকোর্ট ও খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালকের সিদ্ধান্ত বহাল রইল। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এখবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে দেড় মাসের মধ্যে নির্বাচনের শর্তে দায়িত্বভার গ্রহণ করে। কিন্তু এডহক কমিটির আহ্বায়ক কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া সেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও তহবিল তচ্ছরূপের কারনে কমিটির অপর সদস্যরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। যার ফলশ্রুতিতে গত ২৭ মার্চ আহ্বায়ক কমিটির চার জন সদস্য জরুরী সভায় মিলিত হয়ে আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ স্বপনকে তার পদ থেকে অপসারনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সভায় মিজানুর রহমানকে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ১১ এপ্রিল খুলনার বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক আহ্বায়ক কমিটির চারজন সদস্যের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এজাজ আহমেদ স্বপনকে আহ্বায়কের পদ থেকে অপসারন করে মিজানুর রহমানকে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

এরপর ১২ এপ্রিল আহ্বায়ক কমিটির সভায় তহবিল তচ্ছরূপের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সদস্য মুনসী রাইসুল হক টুকুকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট অভ্যন্তরীন পরীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়। আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে পরীক্ষণ কমিটি অপসারিত আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ স্বপনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৬ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাতের অডিট রিপোর্ট দাখিল করেন। গত ২৫ এপ্রিল ছিল বিশেষ নির্বাচনী সাধারন সভার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ। আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সাধারন সভায় সাবেক আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ স্বপন তহবিল তচ্ছরূপের কারনে সাধারন সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন। পরবর্তী নির্বাচিত কমিটি সংগঠনের টাকা তচ্ছরূপের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে নির্বাচনী সাধারন সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সভায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার আরাফাত হোসেনের কাছ থেকে প্রার্থীদের জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অপসারিত আহ্বায়ক এজাজ আহমেদ স্বপন তার পদ ফিরে পাওয়ার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে আজ মঙ্গলবার মহামান্য হাইকোর্ট তার রিট পিটিশন খারিজ করে দেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন