হোম এক্সক্লুসিভ ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট নির্বাচন : বিএনপি- হাইব্রীড পূর্ণবাসন!

কথা দিয়ে কথা রাখলেন না কেউ!

মন্তব্য প্রতিবেদন:

রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী
—————–

কথা ছিল আওয়ামী লীগপন্থীদের সমন্বয়ে সিএন্ডএফ এর কমিটি হবে। কিন্তু কেউ কথা রাখলেন না। সিএন্ডএফ এর কমিটিতে হাইব্রীডরা প্রাধান‌্য পেয়েছে। এমনকি সভাপতি পদ দখল করে নিয়েছেন বিএনপিপন্থী এক সিএন্ডএফ এজেন্ট। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেছিলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কোন ছাড় দেয়া হবে না। দলের লোককে বসানো হবে। কিন্তু অদৃশ‌্য কারনে কেউ কথা রাখতে পারলেন না। আদালতের নির্দেশে স্থগিত হওয়া নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু আবারও বাগিয়ে নিলেন সভাপতির পদ। বুঝতে বাকী রইল না “ডাল মে কুচ কালা হে”।

সাধারণ সম্পাদক পদ দখল করলেন এক হাইব্রিড নেতা । ঐ নেতা সম্পর্কে অনেক কিছুই গুঞ্জন রয়েছে। কেউ কেউ বলতে চাই তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। লন্ডনে থাকাকালীন তারেক রহমানের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদের হাল খতিয়ান সব সময় তার কাছে থাকে। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত একটি শাখা কমিটিতে তিনি তার নাম অন্তর্ভূক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সম্পর্কে পোড় খাওয়া এক আ’লীগ কর্মী জানালেন, সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম‌্যান একাধিক নাশকতা মামলার আসামী আবুল কালাম আজাদ আ’লীগের উপজেলা কমিটিতে গুরত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। ১৯৭৫ ও ২০০১ সাল পরবর্তী সময়ের মতো প্রকৃত আ’লীগারদের দুঃসময় চলছে। দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অর্থ বানিজ‌্যে মেতে উঠেছেন। ক্লিন ইমেজ নামে পরিচিত এক নেতার ঘাড়ে ভর করেছে তালিকাভূক্ত এক শীর্ষ চোরাকারবারী। ঘোজাডাঙ্গা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের পচ্ছন্দ অনুযায়ী সিএন্ডএফ এর কমিটি গঠনে ঐ শীর্ষ চোরাকারবারী গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিচিত এক যুবলীগ নেতা বললেন, সিএন্ডএফ এর কমিটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ত‌্যাগী কর্মীরা দলের শীর্ষ নেতাদের সামনে মন খুলে কথাও বলতে পারে না। হাইব্রীড নেতাদের ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার রেকর্ড নেই। হাইব্রীডরা আ’লীগকে গ্রাস করে ফেলেছে। কিন্তু
প্রতিবাদ করার কেউ নেই।

আইন-আদালত শেষে গত ২৫ এপ্রিল নির্বাচনী সাধারণ সভায় সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৬ মে নির্বাচনের দিন ধার্য রয়েছে। গত ৯ মে ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এর দিন। কিন্তু ঐদিন তিন সদস‌্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশনের সকলেই ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ‌্যাসোসিয়েশন ভবনে ছিলেন অনুপস্থিত। অ্যাসোসিয়েশন ভবন ছিল পুলিশ দ্বারা বেষ্টিত। অনেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এসে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বিষন্ন বদনে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ‌্য হন।

দিন তারিখ মনে নেই। সিএন্ডএফ নির্বাচনে আ’লীগ পন্থীদের একক প্যানেল চূড়ান্ত করার জন্য জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। জেলা আ’লীগের দুই শীর্ষ নেতা, ১২ জন সিএন্ডএফ এজেন্ট সহ ওই বৈঠকে ১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আমি নিজে প্রস্তাব করেছিলাম, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শ্রদ্ধেয় আশরাফুজ্জামান আশু ভাই দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, রাজু কে বাদ দিতে হবে। অন্যরা বললেন, আপনারা যেটা করবেন সেটাই মেনে নেব।

কিন্তু আঁচ করতে পারলাম, গুরুত্বপূর্ণ পদে আওয়ামী লীগপন্থী সিএন্ডএফ এজেন্টের ঠাঁই হচ্ছে না। নব্বইয়ের দশকে ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে নিয়মিত উপস্থিত থাকতাম। সেই সুবাদে আমি সহ কয়েকজন তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ সাঈদ উদ্দিনের শরণাপন্ন হলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাহেবের বাসভবনে সান্ধ্যকালীন বৈঠক হলো। আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন সিএন্ডএফ এজেন্ট ,শহর ও জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো কাজী রাজু বিএনপিপন্থী। তাকে মেনে নেওয়া হবে না। সকলেই একমত পোষণ করলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বললেন, আওয়ামী লীগপন্থী সিএন্ডএফ এজেন্টদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের অপর এক শীর্ষ নেতার সাথে বৈঠকের কথা হল। কিন্তু সেই বৈঠক আর হলো না। হয়তোবা বৈঠক হলেও তেমন কোনও লাভ হতো না।

চোখে পড়ল সাপ্তাহিক ইচ্ছেনদী পত্রিকার একটি খবর। ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কমিটির খবর রাজনৈতিক পরিচয় সহ প্রকাশিত হয়েছে। সভাপতি পদে কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু’র নামের পাশে বিএনপি লেখা। কয়েকদিন আগে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হারুনুর রশিদের সাথে কথা হচ্ছিল। তিনি জানালেন, রাজুর এক ভাই কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। অন্যরা সকলেই বিএনপিপন্থী। তারা কখনও নৌকায় ভোট দেয়নি। তার প্রয়াত ভগ্নিপতি এবং ভাগ্নিরা আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ সাইদ উদ্দিন ও একমত পোষণ করেছিলেন। আ’লীগ সমর্থিত সিএন্ডএফ এজেন্টদের প্রশ্ন, দুই মাস আগে স্থগিত হওয়া নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প‌্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু। তাহলে তিনি আ’লীগপন্থী হলেন কীভাবে? তাহলে প্রশ্ন উঠেছে দলীয়করণের কথা বলে কেন বিএনপি ও হাইব্রিডের পুনর্বাসন করা হলো?

বর্তমান এডহক কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমানকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ নেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কারণ হিসেবে মিজানুর রহমান বললেন, আওয়ামী লীগের কোন শাখার সভাপতি কে যদি পরবর্তী সম্মেলনে যুগ্ম সম্পাদক অথবা সাংগঠনিক সম্পাদকের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি কি সেই পদ গ্রহণ করতে পারেন? আহ্বায়ক এর পদ সভাপতির সমমর্যাদার। তাকে যুগ্ম-সম্পাদকের প্রস্তাব দেওয়ার অর্থ হলো প্রকারন্তে অসম্মান করা ।

কিন্তু কথা ছিল তো, আওয়ামী লীগপন্থী সিএন্ডএফ এজেন্টদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। তাহলে কেনই বা বিএনপি ও হাইব্রিড নেতাদের দখলে চলে গেল ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ‌্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব? বুঝতে কারও বাকি নেই। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম, ওপারের চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট এর এদেশীয় এজেন্ট এক শীর্ষ চোরাকারবারী গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সন্ধ‌্যায় খবর পেলাম, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ‌্যাসোসিয়েশনের বিএনপি-হাইব্রীড কমিটির বৈধতা আনার জন‌্য ক্লিন ইমেজধারী ঐ শীর্ষ নেতা খুলনায় অবস্থানরত শ্রম প্রতিমন্ত্রীর বাসায় অপেক্ষা করছেন। কিন্তু শেষ খবর জানা যায়নি।

লেখক পরিচিতি
—————-
সংবাদকর্মী, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানীকারক।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন