হোম অন্যান্যকৃষিবার্তা পিরোজপুরে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা

পিরোজপুরে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজির চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 639 ভিউজ

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলায় বিলাঞ্চলে প্রায় দুইশ বছর ধরে ভাসমান পদ্ধতিতে পানির উপর উৎপন্ন হচ্ছে বিভিন্ন প্রাজাতির মৌসুমী সবজির চারা। আর এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। পিরোজপুর থেকে শেখ রিয়াজ আহাম্মেদ নাহিদ এর পাঠান রিপোর্ট।

জমিতে জলজ উদ্ভিদ জন্মালে কৃষকদের দুশ্চিন্তার আর শেষ থাকে না। এতে অনেক সময় জমি অনাবাদিই থেকে যায়। তবে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ি-দোবড়া, মালিখালী ও কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন, পার্শবর্তী নেছারাবাদ ও বানারীপাড়া উপজেলার বিলাঞ্চলে এই জলজ উদ্ভিদই পরিবর্তন করেছে ওই এলাকার হাজারও মানুষের ভাগ্য।

বছরের প্রায় অধিকাংশ সময় ৬-৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকা জমিতে উৎপন্ন কচুরিপনা ও বিভিন্ন প্রজাতির শ্যাওলা ব্যবহার করে ভাসমান পদ্ধতিতে সেখানকার কৃষকরা উৎপাদন করছেন লাউ, কুমড়া, শশা, বেগুট, টমেটো, পেপে, করলাসহ প্রায় সব ধরণের সবজির চারা। প্রথমে বিশেষ কৌশলে স্থানীয় কারিগরেরা কচুরিপনা দিয়ে ১৮০ ফুট লম্বা, ৩-৪ ফুট চওড়া ও ২-৩ ফুট গভীর ভাসমান বীজতলা তৈরি করেন যা স্থানীয়ভাবে ধাপ নামে পরিচিত।

ধাপগুলো একস্থানে তৈরির পর সেগুলো ভাসিয়ে জলমগ্ন জমিতে স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তার উপরে সারি করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সবজির বীজ ও অঙ্কুরিত চারা স্থাপন করা হয়। প্রতি বছর জৈষ্ঠ্য মাস থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী ৪-৫ মাস চলে সবজির চারা উৎপাদনের কাজ।

একটি ধাপে চারার প্রজাতিভেদে একবারে ১০০০-১৫০০ টি চারা উৎপাদন করা যায়। আর এতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। আর একটি ধাপ ব্যবহার করা যায় ৫-৬ বার। প্রতিটি সবজি চারা পাইকারি ৪-৮ টাকায় বিক্রি হয়। আর এসব চারার বেশ চাহিদা থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা কিনতে আসে ব্যবসায়ীরা। তবে কৃষকদের দাবি ভাসমান পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করতে মৌসুমের শুরুতে তাদের অনেক খরচ হয়।

এ সময় নগদ টাকা না থাকায়, তারা বিভিন্ন এনজিও কিংবা স্থানীয়দের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নেয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের দাবি তাদের। কৃষকরা যাতে মানসম্পন্ন সবজির চারা উৎপাদন করতে পারে এ জন্য তাদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। এ বছর পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলায় ধাপ পদ্ধতিতে ২৯০ হেক্টর জমিতে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। গত বছর পিরোজপুরে ভাসমান পদ্ধতিতে প্রায় এক কোটি সবজির চারা উৎপাদিত হয়েছিল।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন