অনলাইন ডেস্ক:
সম্প্রতি ফেসবুকে তিনটি ছবির একটি কোলাজ ছড়িয়ে পড়ছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিগুলো পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক কোনো হামলার ঘটনার নয়, বরং এগুলো ভিন্ন প্রেক্ষাপটের তিনটি আলাদা ঘটনার দৃশ্য।
ফয়াক্টওয়াচের অনুসন্ধানঃ
ছবিগুলো সম্পর্কে জানার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ছবিগুলোর উৎস খুঁজে পাওয়া যায়।
কোলাজের প্রথম ছবিতে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। অনুসন্ধানে ‘Hindutva Watch‘ নামের একটি ফেসবুক পেজে এই স্থাপনাটি ভাঙার একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যার একটি কি-ফ্রেম ভাইরাল ছবিটির সাথে হুবহু মিলে যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় যে, এটি পশ্চিমবঙ্গের কোনো ঘটনা নয় বরং উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবির নগরের খলিলাবাদ এলাকার ঘটনা। ইটিভি ভারত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল স্থানীয় প্রশাসন এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ভেঙে ফেলা এই মাদ্রাসাটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ধর্মীয় প্রচারক আনাস সিদ্দিকীর বলে জানা যায়। প্রশাসনের দাবি, এটি সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তুলে এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে এই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ছবিতে পুলিশ কর্মীদের রাস্তায় টহল দিতে দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ৪ মে ব্রিটেন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা পোস্ট‘-এ এই ছবিটি প্রকাশিত হয়। সেখানে ছবিটিকে কোনো হামলার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে ছবিটিকে মূলত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রুখতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি সতর্কতামূলক টহলের দৃশ্য হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় ছবিটিতে কয়েকজনকে ধাওয়া করার যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তার অনুসন্ধানে ‘utkalavibes‘ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। এই ভিডিওর একটি কি-ফ্রেম ভাইরাল ছবিটির সাথে হুবহু মিলে যায়। ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ভারতের ওড়িশার পুরি জেলার যেখানে ভুক্তভোগীকে আক্রমণ করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং টাইমস নাও-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ মে পুরির গোলাবাজার এলাকায় মৃত্যুঞ্জয় ভারিমাল নামে এক যুবককে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং বাইক দিয়ে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এটি একটি পুরোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটা অপরাধমূলক ঘটনা। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
যদিও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর সেখানে কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া যায়, তবে ভাইরাল হওয়া এই ছবিগুলো সেই ঘটনার প্রমাণ নয়। ছবিগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের তিনটি আলাদা আলাদা ঘটনার। তাই সব কিছু বিবেচনা করে ফ্যাক্টওয়াচ ভাইরাল পোস্টগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
