সংকল্প ডেস্ক :
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বালুয়া বাজারে রোকনুজ্জামান ওরফে রোকন সরদার (৩৫) নামের এক ব্যবসায়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি আজ শুক্রবার সকালে অভিযুক্তদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। নিহত রোকনুজ্জামান সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের হারু সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত বালুয়া বাজার। এই বাজারে কনকচন্দ্র মহন্তের মিষ্টির দোকান রয়েছে। তিনি নিজে মিষ্টি তৈরি করে প্রতিকেজি ১৫০ টাকা বিক্রি করেন। এই দোকানের অদুরে কাজী শফিউর রহমানের হোটেল অ্যান্ড রেষ্টুরেন্ট রয়েছে। এখানে প্রতিকেজি মিষ্টি ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। কম দামে মিষ্টি বিক্রি করায় কনক চন্দ্রকে প্রায় মারধর করতেন শফিউল ইসলামের ছেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সোহেল মিয়া (৩৫)।
একই কারণে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কনকচন্দ্র মহন্তকে মারধর করেন সোহেল ও তার ভাইয়েরা। বিষয়টি জানতে পেরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আছিফুজ্জামান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাত ১০টার দিকে শফিউর রহমানের দোকানে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান।
এ সময় আছিফুজ্জামান ও জাহিদুলের সঙ্গে শফিউর রহমানের ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেল মিয়ার কথাকাটাকাটি হয়। পরে সোহেল ও তার ভাই সোহান মিয়া, সুমন মিয়া এবং শফিউর রহমান মিলে তাদের লোকজন হামলা চালায় আছিফুজ্জামান ও জাহিদুলের ওপর। খবর পেয়ে ইউপি সদস্য আছিফুজ্জামানের চাচা বৈদুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবসায়ি রোকনুজ্জামান ওরফে রোকন ও মোনায়েম সরদার ওরফে জিল্লুর ঘটনাস্থলে যান। তারা ইউপি সদস্যকে রক্ষার চেষ্টা করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল ও তার ভাই সোহান মিয়া, সুমন মিয়া এবং শফিউর রহমান এবং তাদের লোকজন রোকনুজ্জামান ও মোনায়েম সরদারকে আরালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলে রোকনুজ্জামান মারা যান। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
গুরুতর আহত হন মোনায়েম সরদার ওরফে জিল্লুর ও ইউপি সদস্য আছিফুজ্জামান। তাদের দুইজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মোনায়েম সরদারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই রোমান সরদার বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল ও তার ভাই সোহান মিয়া, সুমন মিয়া এবং শফিউর রহমানসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ আজ সকালে সোহেলের মা মোছা. পদ্ম বেগমকে (৫৮) গ্রেপ্তার করে।
এদিকে ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামান সরদারের হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকালে উত্তেজিত জনতা সোহেল, তার ভাই সুমন এবং সোহানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কাজী হোটেলে ও বসতবাড়িতে অগ্নি সংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াস জিকো জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
অপরদিকে শুক্রবার বিকেলে বালুয়া বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বেশিরভাগ দোকানপাট ভয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পুলিশ পাহাড়ার পরেও বাজারের কোনো কোনো ব্যবসায়ী তাদের দোকানের মালামাল আতঙ্কে সরিয়ে নিচ্ছেন।
এখান থেকে ভগবানপুর গ্রামের নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, আত্মীয় স্বজনদের আহাজারি। গোটা গ্রামে শোকের মাতম। শুক্রবার বিকেলে লাশ বাড়িতে পৌছলে আহাজারি শুরু হয়। বাড়ির লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এসময় নিহতের স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি ছেলেকে কোলে নিয়ে নিবার্ক হয়ে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, সোহেল ও তার ভাইয়েরা এলাকার প্রভাবশালী। তাদের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পাননা।
