হোম অন্যান্যসারাদেশ কালিগঞ্জে আমিনুরের আবেদন, পূর্বে মলেঙ্গা জামে মসজিদের দানপত্র জমি রেজিষ্ট্রি বন্ধের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মলেঙ্গা গ্রামের ত্রাসসৃষ্টি করে জমি দখলের কাজে লিপ্ত থাকা দাঙ্গাবাজ, দালাল, ভূমিদস্যুদের গ্যাং লিডার আমিনুরের আবেদনের প্রেক্ষিতে পূর্ব মলেঙ্গা জামে মসজিদের নামে দানপত্র দলিল রেজিষ্ট্রি বন্ধ রেখেছে সাব-রেজিষ্ট্রার। এতে ক্ষুব্ধ মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও এলাকার মুসল্লিরা। অপরদিকে মসজিদের নামে দানপত্র দলিল রেজিঃ বন্ধ রাখায় বিজ্ঞ মহলে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।

জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার তেলিখালী মৌজার এসএ ৯৬ ও ১৩২ এবং এসএ খারিজ ৮৩৮ খতিয়ানের ৫৬৯/৮০৯, ৫৬৯/৮১০, ৫৬৯/৮০৯, ৫৫২, ৫৫২/৮১৩ দাগে মোট ১.১৯৭২ একর জমির মালিক একই উপজেলার পীরগাজন গ্রামের মৃত. জিএম শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে জিএম গোলাম রব্বানী। ওই জমিতে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখলীয় থাকা অবস্থায় জিএম গোলাম রব্বানী বিগত ১৫/০৭/২০২১ তারিখে ২৫৯৬ নং দলিলমূলে নিজ স্ত্রী রেবেকা সুলতানার নামে ১ একর জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়। এরপর ওই ১ একর জমি রেবেকা সুলতানার ভোগ দখলীয় অবস্থায় বিগত ১৬/০৮/২০২১ তারিখে ৩১১২ নং দলিলে আব্দুল্লাহ দিংকে ৩৩ শতক, ১২/১০/২০২১ ইং তারিখে ৪৫৪৭ নং দলিলে জি.এম. গোলাম রব্বানীকে ২০ শতক, ২৮/০৬/২০২২ ইং তারিখে ৩৫৭০ নং দলিলে দাউদকে ১৮ শতক, ১১/০৮/২০২২ ইং তারিখে ৪৭০২ নং দলিলে পূর্ব মলেঙ্গা জামে মসজিদের নামে ০৪ শতক জমিসহ মোট ৭৫ শতক জমি রেজিঃ করে দেয়। অত:পর ১৭/08/২০২২ ইং তারিখে ২৫ শতক জমি পূর্ব মলেঙ্গা জামে মসজিদের নামে দানপত্র করে দিতে রেবেকা সুলতানা দলিল লেখক শান্তি কুমার ঘোষের মাধ্যমে দলিল লিখে কালিগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের খন্ডকালীন সাব-রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল হাসান এর কাছে জমা দেয়। এর কিছুক্ষণ পরে সাব-রেজিষ্ট্রার ওই জমির দানপত্র রেজিষ্ট্রিকার্য সম্পন্ন না করে ফেরত দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, একদিকে গ্যাং লিডার আমিনুর মিথ্যা আভিযোগ খাড়া করে মসজিদের দানপত্রকৃত দলিল রেজিঃ বন্ধ রেখে মসজিদ কমিটিসহ ঐ জমির দাতার সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজনের নামে থানায় অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। ঐ মসজিদের মুসল্লীরা এ মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য থানা অফিসার ইনচার্জ এর নিকট মৌখিক আবেদন জানিয়েছে। এবং অতিদ্রুত মসজিদের নামে দানপত্রকৃত দলিলটি রেজিষ্ট্রকার্য সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রেবেকা সুলতানা জানান, আমার স্বামী জিএম গোলাম রব্বানী এসএ খারিজ ৮৩৮ খতিয়ানের ৫৬৯/৮০৯, ৫৬৯/৮১০, ৫৬৯/৮০৯, ৫৫২, ৫৫২/৮১৩ দাগে মোট ১.১৯৭২ একর জমির মালিক। তার (আমার স্বামী) নিকট থেকে ১ একর সম্পত্তি দলিলমূলে প্রাপ্ত। ওই জমি থেকে ২৫ শতক জমি পূর্ব মলেঙ্গা জামে মসজিদের নামে দানপত্র করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে ধান রোপনও করেছে। জমির দানপত্র রেজিস্ট্রিকার্য সম্পন্ন করতে দলিল লেখক শান্তি কুমার ঘোষের মাধ্যমে দলিল লিখে খন্ডকালীন কালিগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রারের কাছে জমা দেই। অথচ ওই রেজিষ্ট্রার জমির দানপত্র রেজিস্ট্রিকার্য সম্পন্ন করছে না। এর থেকে প্রতিকার পেতে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে কোনো আবেদন জমা দেয়নি। এক্ষনে মসজিদের ইমামসহ সংস্কার কাজে আর্থিক সমস্যা নিরসনে জমিটি দানপত্র রেজিষ্ট্র করা জরুরী হয়ে পড়েছে। সেজন্য জেলা রেজিস্ট্রারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অপরদিকে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদনকারী আমিনুরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি উপরিউক্ত বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।

দলিল ফেরত’র বিষয়ে খন্ডকালীন কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার মঞ্জুরুল হাসান জানান, জেলা রেজিষ্ট্রারের নির্দেশে ওই দানপত্র দলিল রেজিঃ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে ওই জমির দানপত্র রেজিষ্ট্রিকার্য সম্পন্ন করা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার মোহা. আব্দুল হাফিজ জানান, উভয়পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই জমির দানপত্র রেজিস্ট্রিকার্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। তাদের মালিকানা যাচাই এর জন্য মিউটিশনপূর্বক জমি কোবলা রেজিষ্ট্রি করে দেওয়ার কথা বলেছি। তখন কে মালিক তা অবশ্যই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন