হোম এক্সক্লুসিভ  করোনার কালো থাবা ! মধ্যবিত্তের ঘরে বোবা কান্না

 করোনার কালো থাবা ! মধ্যবিত্তের ঘরে বোবা কান্না

কর্তৃক
০ মন্তব্য 203 ভিউজ

পরনে ছিল আধা ময়লা লুঙ্গি। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। জামাটা তেমন পরিষ্কার নয়। চোখ মুখে ছিল অজানা আতঙ্ক।কত দিন আর এ ভাবে চলবে? ছোট একটা ষ্টেশনারী দোকান। বেচাকেনা যা হত তার আয় সংসার চলত। দোকান খুলতে পারছিনা। দোকান খুলেই বা কি হবে? শহরে কোন লোকজন নেই। তাহলে সংসার চলবে কিভাবে? আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত আমাদের দেখার কেউ নেই।

না পারছি ত্রাণের লাইনে যেতে। না পারছি লোকলজ্জায় মুখ ফুটে কিছু বলতে। এই কয়দিনে সংসার লাটে উঠেছে। এভাবেই নিজের সাংসারিক পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করছিলেন পরিচিত এক ষ্টেশনারী দোকানী। শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ে আরো কয়েকটি দোকান দেখিয়ে বলল দু-একজন ছাড়া সবার একই অবস্থা। ইলিয়াসের হোটেল বন্ধ অনেকদিন । হোটেলের উপরে ওর সংসার নির্ভর করে। এই মোড়ে যাদের দোকানপাট রয়েছে তারা সবাই ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।

দোকান খুললে সংসার চলে। আর দোকান না খুলতে পারলে সংসারের ঘানি টানা সত্যি দুরূহ হয়ে পড়ে। সমাজের দরিদ্র অতি দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষগুলো সাহায্যের জন্য হাত পাততে পারে। কিন্তু এই নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ গুলোর অবস্থা খুবই খুব কঠিন। সমাজের কোন বিত্তবান মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও তারা লোক লজ্জার ভয়ে কোন কিছু দিতেও পারছো না।

শুধু সাতক্ষীরা নয় এর চিত্র সারাদেশের। শহরের শহীদ রাজ্জাক পার্কের সামনে রমজান আলী ষ্টেশনারী দোকান। বেচাকেনা ভালই হয়। সেই আয়ে তার সংসার ভাল ভাবেই চলে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তার দোকানে বেচাকেনা তেমন নেই। চক্ষু লজ্জার মাথা খেয়ে ত্রাণ তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।

চেক করতে গিয়ে ত্রাণ দাতার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসলো রমজান আলীর নাম। তালিকা যারা প্রস্তুত করেছে তাদের একজন বলল রমজান চাচা গোপনে নামটা উঠিয়ে দিয়েছে। যদি আপত্তি থাকে তাহলে তার নামটা কেটে দিতে বলেছে। অর্থাৎ রমজান আলীর মত লক্ষ্য লক্ষ্য নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অবস্থা একই রকম।

কথা বলছিলাম তালার মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সাথে। তিনি জানালেন হাট বন্ধ। কৃষিজাত পণ্য বেচবো কোথায়? মাঠের তরিতরকারির শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিছু বিক্রির জায়গা নেই। দশ দিন মাস খাইনি। ছোট মেয়েটা মাছ ছাড়া খেতে পারে না। কিন্তু কিছু করার নেই। অদৃশ্য এই করোনাভাইরাস ধনী গরীব কে এক কাতারে এনে দিয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের অবস্থা একই রকম। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ঘোষণা দিয়েছেন যারা তান তালিকায় নাম উঠাতে লজ্জা বোধ করছেন তাদেরকে সরকার সাহায্য করবে। জেলা প্রশাসকের ইনবক্সে নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর পাঠালেই তার বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে যাবে। জেলা প্রশাসকের এই ঘোষণা অনেকেই জানতে পেরেছে। কিন্তু ইনবক্সে সাহায্য চাইতে মধ্যবিত্ত শ্রেণী সংকোচ বোধ করছেন।

কারণ জেলা প্রশাসকের ত্রাণ যখন বাড়িতে পৌঁছাবে তখন প্রতিবেশীরা দেখে ফেলবে। লজ্জায় মাথা কাটা যাবে। তাই মধ্যবিত্ত শ্রেণী ঘরে না খেয়ে মরবে তবুও কারো কাছে হাত পাতবে না। সে কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বাড়িতে একটু আড়ি পাতলেই শোনা যায় বোবা কান্না। এদের এই বোবা কান্না থামাবে কে ?

লেখক :সম্পাদক,দৈনিক সংকল্প ও নিজস্ব প্রতিনিধি  RTV

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন