হোম জাতীয় হামলার পর কতটা অকেজো হয়েছে জাহাজ, নাবিকরা দিন পার করছেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক :

ইউক্রেনের জলসীমায় আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজে বিমান হামলায় একজন নাবিক মারা যাওয়ার পর বেঁচে থাকা বাকি ২৮ নাবিক ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। জাহাজে আটকেপড়া নাবিক ও ইঞ্জিনিয়াররা বারবার সেখান থেকে উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন।

কিন্তু হামলার ১৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও কাউকে উদ্ধারের তৎপরতা শুরু করতে পারেনি সরকার। অন্যদিকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে থাকাই ভালো বলে মনে করছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএসসির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক কমডোর সুমন মাহমুদ সাব্বির।

তিনি জানান, নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ব্যবস্থা আছে। এক মাসের অধিক খাবার মজুত আছে। পানিরও সমস্যা নেই। নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত সব ক্রুকে আপাতত শিপেই অবস্থান করতে হবে।

মাহমুদ সাব্বির বলছেন, শহরের চেয়ে জাহাজেই নাবিকরা বেশি নিরাপদ। পরিস্থিতি নিরাপদ মনে করলে নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হবে।

তবে, বিএসসির এমন কথার সাথে জাহাজের বর্তমান পরিস্থিতিও কর্তৃপক্ষকে বুঝতে বলেছেন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন আতিক খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসে বর্তমান সময়ের জাহাজের অবস্থা জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘রকেট হামলায় শিপের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। নেভিগেশন সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই সমুদ্রপথে আর বের হওয়া সম্ভব না। মেইন পাওয়ার জেনারেটর কাজ করছে না। শুধু ইমার্জেন্সি জেনারেটর কাজ করছে, সেটাও কতদিন করবে বলা মুশকিল।’

ইউক্রেনের তাপমাত্রা নিয়ে তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘ইউক্রেনের বর্তমান তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি। তাই পানি খুবই ঠান্ডা এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে তুষারপাতও হতে পারে। শিপের হিটিং সিস্টেম কাজ করছে না। গরম পানির সিস্টেমও সম্ভবত কাজ করছে না। রুমগুলোতে হিটিং নেই। তাছাড়া উপরে রকেট আরেকটা পড়ার সম্ভাবনা আছে। তাই সবাই ন্যুনতম পাওয়ারের মধ্যে ইঞ্জিন রুমে অবস্থান করছে, গাদাগাদি করে ঘুমাচ্ছে। বাথরুমের ফ্ল্যাশ আর পানির সিস্টেমও কাজ করছে কি না নিশ্চিত না।’

‘সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার- রেফ্রিজারেটর কাজ না করলে শুকনা খাবার ছাড়া বাকি তরকারি, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত সব খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া ডেড বডিতেও পচন ধরতে পারে।’

এই ক্যাপ্টেন লিখেন, ‘যতটুকু জানলাম, মূল জেনারেটর কাজ না করায় রান্নার কাজে ব্যবহার করার যে ইলেকট্রিক চুলা, সেটাও কাজ করছে না। এখন ওরা কিভাবে রান্না করছে কিংবা আদৌ করতে পারছে কি না নিশ্চিত নই।’

‘জাহাজের বাইরে শহর যে নিরাপদ, তারও নিশ্চয়তা নেই। তাই বিএসসি নাবিকদের বাইরে নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে। পোল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশের সীমান্ত পর্যন্ত নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করা না গেলে নাবিকদের জাহাজ হতে সরানোর ঝুঁকি বিএসসি হয়ত নিতে চাইবে না। এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর অবস্থায় ইউক্রেন সরকারও নেই।’

আটকেপড়া নাবিকদের পরিবারের অবস্থা তুলে ধরে আতিক খান লিখেন, ‘সকাল হতে বাংলার সমৃদ্ধিতে আটকেপড়া কয়েকজন নাবিকের মা, স্ত্রী, ভাই-বোন অনেকেই যোগাযোগ করেছেন, কথা বলেছেন। কি বলে সান্ত্বনা দেব বুঝতে পারছি না। অনিশ্চিত একটা পরিস্থিতি যার নিয়ন্ত্রণ আমাদের কারো হাতে নেই। আপাতত সরকার এবং বিএসসি তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারে আর আমরা ওদের জন্য দোয়া করতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ওদের হেফাজত করুন।’

রাশিয়ার রকেটের আঘাতে বিধ্বস্ত ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। আচমকা হামলায় মুহূর্তে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয় ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে থাকা বাংলাদেশি জাহাজটি। জাহাজের ব্রিজে অবস্থানরত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান প্রাণ হারান ঘটনাস্থলেই।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন