মোস্তফা কামাল, নড়াইল :
নড়াইলের লোহাগড়ার কালনায় মধুমতী সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে দু‘পাড়ের মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ। ১০ অক্টোবর সোমবার নদীর দুই পারের মানুষ জড়ো হয় কালনা ঐলাকার মধুমতির তীরে। আশপাশের জেলা থেকেও এসেছেন উৎসুক মানুষ। নেমেছিল সেতুপাড়ে মানুষের ঢল ।
এই সেতুর পূর্ব পারে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা এবং পশ্চিম পারে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা। ধনুকের মতো বাঁকা দৃষ্টিনন্দন এই সেতু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। এটি হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে, তাঁর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ পশ্চিমের অন্তত ১০টি জেলা এবং এর অধীন বেনাপোল ও ভোমরা স্থল বন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ সহজতর করতে ২০০৮ সালের ১৯ডিসেম্বর নড়াইলে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ সেতু বাস্তবায়ন হলো। এর ফলে এসব জেলার মানুষের মাগুরা-ফরিদপুর রুটের পরিবর্তে কালনার মধুমতী সেতু ও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা যাতায়াতে ১০০ থেকে ১৫০কিঃমিটার পর্যন্ত দূরত্ব কমলো। উন্মোচিত হলো এ অঞ্চলের সমৃদ্ধির নবদিগন্তের। অবসান হলো কালনাঘাটে ফেরি পারাপারে মানুষের সারা জীবনের সীমাহীন দুর্ভোগ ভোগান্তির।
তাইতো মধুমতী সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে নড়াইলে এ দিন বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস ছিল এখানকার মানুষের মাঝে। সেতুর নড়াইল প্রান্তে সাড়ে ১২টায় আয়োজিত এ উদ্বোধনী আয়োজনে যোগ দিতে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণী পেশার মানুষের সমবেত হন। এতে অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় অনুষ্ঠান স্থল।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সঞ্চলনায় উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে নড়াইল ১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক, ২ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব মোঃ শামীমুজ্জামান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী, খুলনা রেঞ্জের ডি আই জি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, মধুমতী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শ্যামল ভট্টাচাযর্, নড়াইলের পুলিশ সুপার মোসাঃ সাদিরা খাতুন, জেলা আওযামীলীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নিজাম উদ্দিন খান নিলুসহ আওয়ামী লীগও এর অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনও সেতু সংশ্লীষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।
সেতু মুখে নির্মিত উদ্ভোধনী ষ্টেজসহ নানা প্রতিবন্ধকতা অপসারনের মধ্য দিনে আজ (১০অক্টোবর) রাত ১২(বারো) টায় এটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। ইতোমধ্যেই সেতুর টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভারী মালবাহী যান ৫৬৫, বড়ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ৪৫০, মাঝারি ট্রাক ২২৫, বড় বাস ২০৫, ছোট ট্রাক ১৭০, পুয়ার টিলার/ট্রাকটর ১৩৫, মিনিবাস/ কাষ্টার ১১৫, মাইক্রোবাস/পিকলরপ৯০, টেম্পে/সিএনজি ২৫, মটর সাইকেল১০ ও ভ্যান/ রিক্সা/ সাইসাইকেল ৫টা ধার্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্বাবধানে ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রæভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এ সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। ১২টি পিলারের উপরে ৬৯০মিটার দৈর্ঘ ও ২৭.১মিটার প্রস্থের এ সেতুকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে এটির ১৫০মিটার ষ্টিলের নেলসন লসি আর্চ। ধনুকের মতো বাঁকা এ স্প্যানটি জাপানের নিপ্পন কোম্পানি ভিয়েতনামে তৈরি করেছে। সেতুতে মোট এবাডমেট রয়েছে ২টি, ১৩টি স্পান ও ১৬০টি গার্ডার। সেতুর ৪.২৬কিলোমিটার সংযোগ সড়ক রয়েছে। এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। চারটি মূল লেনে চলবে দ্রুতগতির যান, ধীর গতি সম্পন্ন যানবাহন চলাচল কররে বাকি দুটিতে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাপানের টেক্কেন র্কপোরেশন, ওয়াই বিসি এবং বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড যৌথভাবে ৯শ ৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে মধুমতী সেতু নির্মিত হয়েছে। এতে অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও বাংলদেশ সরকার। মধুমতী সেতু এ অঞ্চলের অর্থ, ব্যবসা বানিজ্যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধনের মধ্য দিয়ে আর্তসামাজিক চালচিত্র আমুল বদলে দেবে বলে সংশ্লীষ্ট সবাই আশা করছেন।
