জাতীয় ডেস্ক :
সিলেট নগরীর অধিকাংশ বহুতল ভবনেই নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। অন্যদিকে দখলবাণিজ্য আর ভবন নির্মাণে ভরাট হয়ে গেছে অধিকাংশ জলাশয়। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসকে পড়তে হয় পানি সংকটে। পানির যোগান দিতে ফায়ার সার্ভিস হাইড্রেন্ট পয়েন্ট তৈরির সুপারিশ করলেও বাসাবাড়িতে হাইড্রেন্ট রিজার্ভ নিশ্চিতকে গুরুত্ব দিচ্ছে সিটি করপোরেশন।
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী লাল দিঘি। এটি দখল করে গড়ে ওঠেছে সিলেটেরে সবচেয়ে পুরনো হকার্স মার্কেট। তবে দিঘির গুরুত্ব এই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উপলব্ধি করতে হয়েছে গত মে মাসে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের সময়। ফায়ার সার্ভিস শতচেষ্টা করেও পানির অভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। ততক্ষণে পুড়ে যায় অর্ধশত দোকান।
লাল দিঘির মতোই নগরীর অধিকাংশ পুকুর, দিঘি ও জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন। যার অধিকাংশতেই নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। ফলে কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। এমন জরুরি মুহূর্তের বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিস সিসিক কর্তৃপক্ষকে ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট নির্মাণের প্রস্তাব দিলেও এখনও নেই দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের (সিলেট) সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আগুন নেভানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি পানি। কিন্তু সিলেট নগরীর অধিকাংশ জায়গাতেই পানির উৎস নেই। যার কারণে কোথাও আগুন লাগলে সমস্যা দেখা দেয়। তাই ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট নির্মাণের জন্য আমরা গত দুবছর আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছি। এটি এখন খুব জরুরি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবন নির্মাণে পর্যাপ্ত রাস্তাসহ সঠিক পরিকল্পনার অভাবে দেখা দিতে পারে মহাবিপদ।
স্থপতি রাজন দাস বলেন, ‘শুধু ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্ট হলেই হবে না। পরিকল্পনা আর ইমারত নির্মাণ আইনের বাস্তবায়ন খুব জরুরি। কারণ এখন অধিকাংশ বাসা তৈরি হচ্ছে যেগুলোর রাস্তা একেবারেই ছোট। এতে আগুন লাগলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হবে। ফলে মহাবিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। তাই এ বিষয়ে সিসিকের মনিটরিং জরুরি এবং জনসাধারণের সচেতনতাও প্রয়োজন।
তবে সিসিক হাইড্রেন্ট পয়েন্ট নির্মাণের বদলে বাসাবাড়িতে হাইড্রেন্ট রিজার্ভ নিশ্চিতকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘হাইড্রেন্ট পয়েন্ট খুব কার্যকরী হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ আমাদের এখানে পানির প্রেসার সব সময় সমান থাকে না। তাই আমরা হাইড্রেন্ট পয়েন্ট নির্মাণের বদলে বাসাবাড়িতে হাইড্রেন্ট রিজার্ভ নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, সিলেট নগরে প্রায় ৩৬টি পুকুর ও দিঘি থাকলেও এখন অধিকাংশই ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বহুতল ভবন এবং নগরীর প্রায় ৭০ শতাংশ ভবনেই নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা।
