নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ধুমঘাটের নরেন্দ্র নাথ মুন্ডা হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ৫ দফা দাবিতে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে বুধবার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার,উপজেলা চেয়ারম্যান এস.এম আতাউল হক দোলন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার হোসেনের কাছে এ স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। এসময় নরেন্দ্র মুন্ডা হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতসহ আসন্ন দুর্গাপূজায় যাতে শ্যামনগরে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সদস্য সচিব আলীনুর খান বাবলু, সদস্য সাংবাদিক কল্যাণ ব্যাণার্জি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল সাতক্ষীরার সভাপতি তরিকুল ইসলাম, শম্পা গোস্বামী, এম বেলাল হোসাইন, মুন্ডা উন্নয়ন সংস্থা (শামস) এর পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা, নিহত নরেন্দ্র মুন্ডা হত্যা মামলার বাদী ফনিন্দ্র মুন্ডা, আদিবাসী মুন্ডা সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষন আন্দোলন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব গোপাল কৃষ্ণ মুন্ডা, যুগ্ম সদস্য সচিব প্রভাষক দিপংকর বিশ^াস, জাসদছাত্রলীগ নেতা মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৪ মূলনীতির ভিত্তিতে দেশটি স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় দলীল সংবিধানে বলা হয় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ ভেদে কোন বৈষম্য রাষ্ট্র কর্তৃক করা হবে না। সকলের জন্য সমান মর্যাদার স্বীকৃতি সংবিধানে প্রদান করা হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে সংবিধান সংস্কার কমিটিরমাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি তথা আদিবাসীদের প্রথাগত ভুমির অধিকারকে স্বীকৃতি দেন। আদিবাসীর সম্পত্তি হস্তান্তরের পূর্ববর্ত আইনকে বলবত রাখা হয়। অর্থ্যাৎ জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু সরকারে নির্বাচনী অঙ্গিকারকে ব্যর্থ করতে ও সংবিধানের প্রতি বৃদ্ধা আঙ্গুল প্রর্দশন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংশ করতে নানা অপচেষ্ঠা করে আসছে একটি অপশক্তি। যার ধারাবাহিকতায় শ্যামনগরে আদিবাসী মুন্ডাদের সম্পত্তি দখল হত্যা, যতিন্দ্রনগরে আহমাদিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সভায় উস্কানী মূলক বক্তৃতা, ধর্মীয় সংখ্যা লঘুদের (হিন্দু) বিরুদ্ধে বিভিন্ন উস্কানী মূলক অপপ্রচারসহ নানা প্রক্রিয়ায় সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার অপচেষ্টা চলছে।
৫দফা দাবি গুলো হচ্ছে, শ্যামনগরের ধুমঘাটের অন্তাখালি গ্রামে গত ১৯ আগষ্ট ২২ ভ‚মিদস্যুদের আক্রমনে নিহত নরেন্দ্র মুন্ডার হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার। আদিবাসীদের সম্পত্তি হস্তান্তর নিষিদ্ধ থাকলেও তঞ্চকতার মাধ্যমে বেআইনী পদ্ধতিতে রেকর্ডকৃত ও দখলকৃত সকল জমি মুন্ডাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। আগামী দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে যাতে কোন ধরনের বিশৃংলা ও সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যতিন্দ্রনগরে অবস্থানকারী আহমাদিয়াদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সভা সমুহে উষ্কানীমূলক বক্তব্য প্রদান কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা। নূরনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানকারী শিয়া সম্প্রদায়ের স্বাধীন ভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা করা এবং নিন্মবর্ণের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
