হোম ফিচার সাতক্ষীরার বৈকারী ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর হামলার ঘটনায় সদর থানা মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা দায়ের : নৌকার প্রার্থীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর নেওয়ার নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরা জেলা তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বৈকারী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু মোঃ মোস্তফা কামালের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা, মারপিট, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস প্রতীকের আবু মোঃ মোস্তফা কামালের ভাই আফতাবুজ্জামান বাদি হয়ে রবিবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলে ও তার দু’ ছেলেসহ ৩০ জন ও অজ্ঞাতনামা ২২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। সদর থানায় মামলা না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন বাদিপক্ষ।

মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ হুমায়ুন কবীর মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আগামি ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৭ অক্টোবর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান অসলে নৌকা প্রতীক ও জেলা তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মোঃ মোস্তফা কামাল স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে মোটর সাইকেল প্রতীক পান।

সদর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রতীক পাওয়ার পর মোস্তফা কামাল র‌্যালী নিয়ে বৈকারীতে ফেরার সময় বিকেল ৫টার দিকে কেয়ারপাড়া বটতলা নামকস্থানে নৌকা প্রার্থী আসাদুজ্জামান অসলে ও তার ছেলে ইনজামুল হক ইমজা ও জহির রহমানের নেতৃত্বে ৫২ জন হাতে লোহার রড. জিআই পাইপ, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়।

হামলায় আবু মোঃ মোস্তফা কামাল, আব্দুর রহমানসহ ১০/১২ জন জখম হন। ভাঙচুর করা হয় ২০টি মোটর সাইকেল। কেড়ে নেওয়া হয় নগদ টাকা ও মোবাইল। আহত কর্মী সমর্থকদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই আফতাবুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড.জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, আদালত সদর থানার ওসিকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বৈকারী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস প্রতীকের আবু মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে আসাদুজ্জামান অসলে আমাদের ওপর হামলা করেছেন। দ্বিতীয় দফাতেও আমরা হামলার শিকার হয়েছি। অথচ সদর থানায় আমাদের মামলা নেয়নি পুলিশ। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে গিয়েছি। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনাকে পুঁজি করে আসাদুজ্জান অসলে সাতক্ষীরা থানায় আমাকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা করেছেন। এর ফলে পুলিশ রাতদিন আমাকে খুঁজছে।

তিনি বলেন, গভীর রাতে পুলিশ আমার বাড়িতে যেয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। গ্রামের ও শহরের দুই বাড়িতেই পুলিশ হানা দিয়েছে। আমি খুলনায় ডিআইজির সাথে সাক্ষাত করে আমার নিরাপত্তা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে সহায়তার আহবান জানিয়েছি।

তবে, নৌকা প্রতীকের আসাদুজ্জামান অসলে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন আমি বর্তমান পিরিয়ডে চেয়ারম্যান আছি। আমিও চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগন ভোট দিয়ে আমাকে না হয় তাকে বেছে নেবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন