হোম খুলনাসাতক্ষীরা সাতক্ষীরার পলাশপেলে পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় গৃহবধূ ও বোনের উপরও হামলা, থানায় অভিযোগ

সাতক্ষীরার পলাশপেলে পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় গৃহবধূ ও বোনের উপরও হামলা, থানায় অভিযোগ

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 70 ভিউজ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় গৃহবধূকে এ কেমন নির্যাতন! উদ্ধার করতে আসা বোন শিরিনার উপরও হামলা। হামলার ঘটনায় আহত হয়ে মারাত্বক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বোন শিরিনা। নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পলাশপোল এলাকার জেলা কৃষকলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জুম্মান সরদারের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ভূক্তভোগী স্ত্রী মোছাঃ হেনা পারভীন।
ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পলাশপোল নবজীবন ইন্সটিটিউট স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামী মো. মাহফুজুর রহমান ও তার পরিবারের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোছাঃ হেনা পারভীন নামের এক সন্তানের জননী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক কলহের ব্যাপারে অভিযোগের কারণে সাতক্ষীরা লিগ্যাল এইড কমিটি উভয় পক্ষের সম্মতিতে ৭দিন স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ১ সপ্তাহ এক সঙ্গে ঘর সংসার করতে বলে মিমাংসা করে দেয়। কিন্তু ৩দিন অতিবাহিত হলেও স্বামী কথা না রাখায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অনুমান রাত সাড়ে ৯টার সময় স্বামীর বাড়ি যান স্ত্রী মোছাঃ হেনা পারভীন। এসময় অশ্লীল গালিগালাজ করে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা করে ও এলোপাতাড়ী বুকে পেটে লাথি, কিল ঘুসি মারিয়া জখম ও ব্যাপক মারধর করে পাষন্ড স্বামী মো. মাহফুজুর রহমান, শ্বশুর জুম্মান সরদার, শ্বাশুরী মরিয়ম খাতুন ও ভাশুর কুরবান সরদার। মারধোর করার সময় হেনা পারভীনের কান্নার আওয়াজ শুনে তার বোন মোছাঃ শিরিনা সুলতানা বোনকে উদ্ধার করতে আসলে তাকেও ব্যাপক মারধোর করে। এসময় শিরিনা সুলতানার মাথা, মুখ ও চোখে ফোলা, জখম ও শরীর রক্তাক্ত হয়ে আহত হয়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঐঘটনার রাতেই সদর থানায় অভিযোগ করলে সদর থানার এসআই রাজীব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল আসামীর বাড়িতে আসলে আসামীরা খবর পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।
মোছাঃ হেনা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে এই ৪ বছর। আমার একটি কন্যা সন্তান আছে। আমার স্বামী বিয়ের পর থেকে স্বামী বিভিন্ন সময় অন্যান্য মহিলাদের সাথে পরকিয়ায় আসক্ত ছিলো। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে আমার উপর চলতো নির্যাতন। আমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায় সময় আমার উপর নির্যাতন চালাতো কারণে ও অকারণে। আমার কাছ থেকে আমার স্বামীকে আলাদা করার জন্য কৌশলে বেশ কিছুদিন আগে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেয়। আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। দীর্ঘ ১১ মাস সৌদিতে থাকার পর ভিসা জটিলতার কারণে সে আবারও দেশে চলে আসে।’ এই নির্যাতন ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করার কথা শুনে উক্ত ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে তারা পরিকল্পিতভাবে নিজেদের বাড়ির সোকেচের গ্লাস ভেঙ্গেছে। এছাড়াও অভিযুক্ত আসামীরা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। আমাদের পরিবারে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয়রা জানান, জুম্মান সরদারের ছেলে মাহফুজুর রহমান বহুদিন ধরে অন্য মহিলাদের সাথে পরকিয়ায় আসক্ত। তাদের ভয়ে কেউ ভালোমন্দ বলার সাহস রাখে না। আজ হেনা পারভীন ও তার বোন শিরিনা সুলতানার উপর যে অমানবিক নির্যাতন করেছে তা খুবই দুঃখ জনক। এসকল অপরাধীর জন্য দিনদিন নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা মোছাঃ হেনা পারভীনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে ভূক্তভোগী পরিবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন