হোম অন্যান্যসারাদেশ সাতক্ষীরার তালায় কলেজ ছাত্রকে অপরহণ করে মারপিট ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করার অপরাধে ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকীব বহিস্কার, থানায় মামলা দায়ের,

নিজস্ব প্রতিনিধি :

সাতক্ষীরার তালায় কলেজ ছাত্রকে অপরহণ করে মারপিট, মাথা ন্যাড়া ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা সেই ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ আকীবকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সোমবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন স্বাক্ষরিত একপত্রে তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

বহিষ্কারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও সংগঠণ বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিবকে সাময়িক বহিষ্কার ও স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের নেতা আকিবের সাথে একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। নতুন করে সম্পর্ক গড়ে উঠে কলেজ ছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময়ের সাথে। তন্ময়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে ছাত্রলীগ নেতা আকিব রবিবার দুপুরে তাকে নাহিদ হাসান উৎস্যের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে ডেকে এনে তারা কয়েকজন মিলে তাকে মারপিট, মাথা ন্যাড়া করে টাক করে দেয় এবং বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে।

এক পর্যায়ে আকিব দুই লাখ টাকা মুক্তিপনের দাবীতে তন্ময়ের মায়ের কাছে ফোন দেয় এবং তার আর্তনাদ শুনায়। এ সময় তারা দুই লাখ টাকা নিয়ে তালা কলেজের সামনে আসার কথা বলে। বিষয়টি জানাজানির এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় তন্ময়ের চাচাতো ভাইয়েরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় বলেন, ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ হাসান উৎস্যের মাধ্যমে আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আকষ্মিক মারপিট শুরু করে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, ছাত্রলীগ কর্মী জে.আর সুমন ও জয়। কলেজের পশ্চিম পাশে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে টানা ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। হাতে, পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর বাড়িতে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা।

তন্ময় আরও জানায়, যে রুমের মধ্যে আমাকে আটকে রেখেছিল সেটা সম্ভবত কলেজের ছাত্রবাস কক্ষ। ওই রুমের মধ্যে মারপিট করার জন্য বেল্ট, লাঠিসোটা এখনো রয়েছে। ওখানে নিয়ে টর্সার করা হয় বলে মনে হয়েছে। সেখান থেকে আমার চাচাতো ভাইয়েরা আমাকে উদ্ধার করে।

তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ছেলেকে উদ্ধারের পর তালা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর রাতে ছাত্রলীগ নেতা আকিবসহ উক্ত ৫ ছাত্রলীগ নেতা-কমীর্র থানায় এজাহার জমা দিতে গেলে থানার মধ্যেই আমাকে হুমকি দিতে থাকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা এক সন্ত্রাসীর বাবা।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে গিয়েও হুমকি ধামকি দিচ্ছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তাহীনতার কারনে সোমবার বেলা ১২টার দিকে তন্ময়কে বাড়িতে নেওয়া হয়। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, তালা থানার ওসি তদন্ত আবুল কালাম আজাদের নানা নাটকীয়তার পর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের হস্তক্ষেপে তালা থানায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাসহ চার ছাত্রলীগ কর্মী ও এক শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে তন্ময়ের বাবার দেয়া মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলা নম্বর-২০। তারিখ ২৫.০৪.২২ ইং। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় ১৪৩/৩৪২/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায়।

তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে, পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন