হোম আন্তর্জাতিক সমঝোতায় আসবে রাশিয়া-ইউক্রেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তবে প্রতিনিয়ত যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের নানা খবর, হতাহতদের স্বজনদের বিলাপ, বাস্তুচ্যুতদের দুর্ভোগ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ভাবাচ্ছে কমবেশি সবাইকে। ফলে অব্যাহত রয়েছে সংকট সমাধানের চেষ্টাও। সেই চেষ্টা থেকে এর আগে তিন দফায় বৈঠক হয়েছে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে। যদিও সেখান থেকে কোনো সমাধান আসেনি। সমঝোতায় আসতে সোমবার (১৪ মার্চ) চতুর্থ দফায় বৈঠকে বসেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হয়েছে গতকালের বৈঠকও। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা এবং আলোচক মাইখাইলো পোডোলিয়াক জানিয়েছেন, ‘কৌশলগত বিরতির’ পর মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) পুনরায় আলোচনা শুরু হবে।

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যোগাযোগ কঠিন হলেও তা চলমান। উভয় পক্ষ সক্রিয়ভাবে তাদের নিজস্ব অবস্থান প্রকাশ করেছে। তবে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থাই আমাদের মতবিরোধের মূল কারণ।’

নাম প্রকাশ না করে আরেক শীর্ষ আলোচক জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে জানিয়েছেন, ইউক্রেন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, রুশ সেনা প্রত্যাহার এবং রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায়। এটি হলেই কেবল আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পার্থক্য নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে।

এদিকে দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেও ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। হামলার ১৯তম দিনে সোমবার (১৪ মার্চ) রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে কিয়েভের উত্তরাঞ্চলীয় ওবোলন জেলার একটি নয় তলা আবাসিক ভবনে গোলা বর্ষণের অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। দুই পক্ষের আলোচনার মধ্যেই চালানো এই হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের রাজধানীও আর্টিলারি হামলার মুখোমুখি হওয়া সর্বশেষ শহর হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইউক্রেনের জরুরি মন্ত্রণালয়ের পোস্ট করা এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার শিকার হওয়া ভবনটি আগুনে পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য। এ সময় রুশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয়দের স্লোগান দিতেও দেখা গেছে। ভবনটি উত্তর শহরতলির কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত যেখানে সরকারি বাহিনীর সেনারা গত কয়েক দিন ধরে রাশিয়ান বাহিনীকে প্রতিরোধের চেষ্টা করে আসছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর ওবোলন জেলার এই হামলা ছিল কিয়েভে বেসামরিকের ওপর দ্বিতীয় বড় হামলা। এ ছাড়া গতকাল একটি টেলিভিশন টাওয়ার এবং একটি বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য রাশিয়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন।

এ ছাড়া পশ্চিম ইউক্রেনের রিভনে শহরের বাইরে একটি টেলিভিশন টাওয়ারে রুশ বাহিনীর বিমান হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ভিতালি কোভাল মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে এ হামলার তথ্য জানান।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন