নিজস্ব প্রতিনিধি :
গ্রীষ্মকালিন টমেটো চাষে সফলতায় আগ্রহ বেড়েছে তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের চাষিদের। ২০১৭সালে প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় এবার তা কয়েকগুণ বেড়েছে ।
নগরঘাটা এলাকার মাটি টমোটো চাষের উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান থাকায় আগামীতে আরো বেশি জমিতে আবাদ বাড়তে পারে অসময়ে টমেটোর ভাল ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। তাদের এ সাফল্যে অনেক কৃষকরা নতুন করে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন টমেটোতে চাষে। ভাল ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় মূলত নগরঘাটায় টমেটোর আবাদের এ অগ্রগতি।
প্রতি বিঘা জমিতে টমেটোর আবাদে করতে খরচ হয় প্রায় ২ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন বিক্রয় হয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। অসময়ে বিঘা প্রতি দেড় থেকে ২ লাখ টাকা লাভ পেয়ে চাষিদের শুধু অর্থনৈতিক পরিবর্তনই নয়, পরিবর্তন ঘটেছে মানসিক অবস্থারও। এ ইউনিয়নের চাষিরা মূলত বারি-৮ ও বারি-৪ জাতের টমেটোর আবাদ করেছেন। ফলন, মান ও চাহিদানুযায়ী ভাল দাম পাওয়ায় হওয়ায় মূলত চাষিরা এ দু’জাতের টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কৃষক রবি জানান, তিনি ৩বিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ করেছেন।
ইতোমধ্যে তার ক্ষেত থেকে টমেটো উঠতে শুরু করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বিঘা প্রতি তার দেড় থেকে দুই লাখ টাকার উপরে লাভের আশা করেন। সার, কিটনাশকের দাম বেশি হলেও চাহিদামত পাচ্ছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়া একই এলাকার মাসুদ হোসাইন, হামিদুর রহমান বাপ্পী, আসাদুর ররহমান, মোঃ মতিন, কওসার আলী, আইয়ুব আলীসহ আরো অনেকে টমেটো চাষ করেছেন।
শনিবার (১ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবহাওয়া অনুকুল পরিবেশে থাকায় সারা বছর সবজির চাহিদা পূরণ করতে গ্রীষ্মে উদ্ভাবিত জাতের টমেটো চাষ করেছেন এ এলাকার কৃষকেরা। সাদা পলিথিনের ছাউনি দিয়ে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ খুবই সহজ। এ বছর টমোটের আবাদ ভাল হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতে ইতোমধ্যে টমেটো উঠতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে পাইকারী ৬৫-৭০ টাকা। অসময়ে পাকা টমেটোর উপস্থিতি সবজির বাজারে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। দাম বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহ থাকায় বাজারে গর্বিত চাষী হিসেবে তারাও আনন্দিত।
উল্লেখ্য, নগরঘাটা ইউনিয়নের কৃষকদের সাফল্যে বিগত ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর এই এলাকার কয়েকটি গ্রীষ্মকালীন টমেটো ক্ষেত পরিদর্শন করেছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
