বাণিজ্য ডেস্ক :
ঈদের ছুটির পর ভালোই চলছিল দেশের শেয়ারবাজার। লেনদেনে সচ্ছলতা ও সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহে স্বস্তিতে ছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসে বড় রকমের পতনের মুখে পড়েছে শেয়ারবাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রীলঙ্কা পরিস্থিতির প্রভাবে এমনটা হয়েছে।
বুধবার (১১ মে) শুরু থেকে সোয়া এক ঘণ্টা পর্যন্ত সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলে ও তা টানা নিচে নেমে আসে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৭৩ পয়েন্ট দরপতনে লেনদেন কমে ১০০ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ২০২ পয়েন্ট।
এ ব্যাপারে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিপাকে পড়বে বলে সামাজিক মাধ্যমে যেসব অপপ্রচার চলছে, তার প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
সূচকের পাশাপাশি কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন। চলতি সপ্তাহে দুদিন সূচক বাড়ার পর মঙ্গল (১০ মে) ও বুধবার (১১ মে) টানা পতন হলো।
ডিএসইর তথ্যমতে, বুধবারও (১১ মে) বাজারটিতে ৩৭৯টি প্রতিষ্ঠানের ২৪ কোটি ১২ লাখ ৯০ হাজার ২২৭টি শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৩২৩টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির।
অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমায় এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৩ দশমিক ৬২ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৫৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে কমেছে ১৫ পয়েন্ট এবং ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১৫ পয়েন্ট।
বুধবার (১১ মে) ডিএসইতে ১ হাজার ১৩৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৭ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৭১ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার। অর্থাৎ, আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আরডি ফুডের শেয়ার। এরপর যথাক্রমে লেনদেন হয় এসিআই ফর্মুলেশন, বেক্সিমকো, জেএমআই হসপিটাল, শাইনপুকুর সিরামিক, ফরচুন সুজ, জেনেক্স ইফোসেস, ইউনিক হোটেল, আইপিডিসি ও ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩২৯ পয়েন্টে। এ বাজারে ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৪৭টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির। এতে ২৫ কোটি ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৭ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৭ কোটি ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ১৮৪ টাকার শেয়ার।
