শ্যামনাগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি :
শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর ভুমিহীন পল্লীতে ঘটে গেলো এক ভুমিহীনের বন্দোবস্ত দলিলের কারনে ৫টি ভুমিহীন পরিবার হতাশায় দিন কাটাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে ঐ ভুমিহীন পল্লীতে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আবু বাক্কার গাজী(৬৫) পিতা মৃত্য আব্দুল গাজী হরিনগরের ভুমিহীন পল্লীতে খাস জমি নিয়ে ৯০ সালে বন্দোবস্ত দলিল করার ইতিহাস। তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা / তহশীলদার/ নায়েব কে কৌশলে মোটা অংকের টাকার বিনিময় শ্যামনগর উপজেলার হরিনগর মৌজায় ৩ও৯ নং সীটে ৪০১, ২৩৩২,২৩৩৩,২৩৩৭,২৮৬৩,দাগ নম্বরে ৫০ শতক জমি। দলিল নং ৬২১,বন্দোবস্ত নং ২৬৩৩/৮৮-৮৯ সালে আবু বাক্কার গাজী ও তার স্ত্রী মনোয়ারা নামে একটি বন্দোবস্ত দলিল হয়।
এই বন্দোবস্ত দলিলের ক্যারামতিতে ঐ ভুমিহীন পল্লীতে বসবাস রত ৫ টি পরিবার বাপ দাদা পূর্বপুরুষের আবাদ করা ১০০ বছরের ও বেশী সময় ধরে বসবাসের ভিটামাটি ছেড়ে দেওয়ার নানান পায়তারা করছে ঐ দলিল গ্রহীতা ব্যাক্তি। ঐ জমির দালিল গ্রহীতা আবু বাক্কারের অদি বসবাস আশাশুনী উপজেলার গড় প্রতাপনগরে যুবক বয়সে ভবঘুরে চলাচলের কারনে তার ভাই লোকমান এই এলাকা নিয়ে আসে প্রায় ৪০ বছর আগে। যেখান থেকেই ভাই লোকমান বিবাহ দিয়ে ঐ ভুমিহীন পল্লীতে আবু বাক্কার গাজীর বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। আবু বাক্কার এর মধ্যেই বসবাসের মধ্য দিয়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোককে নানাবিধ সুবিধা দিয়ে বন্দোবস্ত দলিল করে এই ভূমিহীন ৫ টি পরিবারে অশান্তির রচনা সৃষ্টি করে চলেছে।
বন্দোবস্ত দলিলের ৪০১ দাগের ৩৩ শতক জমির একটি অংশে গহর আলী ও ময়নদিনের ওয়ারেশগনের পরিবার প্রায় ১০০বছর ও বেশী সময় ধরে বসবাস করে, বর্তমানে গহর ও ময়নদিন দিগরের ৫ টি পরিবার অত্যান্ত অসহায় অবস্থা ঘরবেধে বসবাস করছে ঠিক ঐ অসহায় পরিবার গুলোকে নানান ভাবে হয়রানি করেছে আবু বাক্কার গাজী।
স্থানীয় একটি সুত্রে জানা যায়, আবু বাক্কার বন্দোবস্ত দলিলের জমি বিক্রয় করতে তার পাশে বসবাস রত লোকমান এর পুত্র সাত্তারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েছে এবং ১০০টাকার ৩ তিনিটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেয় সেটি সাত্তারের নিকট রয়েছে। এই ঘটনা ঘটে ২৩/০২/২০২০ সালে আবু বাক্কার গাজী নামীয় স্ট্যাম্প যার নম্বর ক/ষ -২৪৭৪৩৩/২৪৭৪৩৪/ ২৪৭৪৩৫।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, আবু বাক্কার এক বন্দোবস্ত দলিল নিয়ে ঐ ভুমিহীন ৫টি পরিবারকে নানান ভাবেই নির্যাতন করে চলছে, যার ঐ পরিবার গুলো অস্তিতে বসবাস করেছে।
উল্লেখ ১খলিল গাজী পিতা গহর আলী(২) হলিমা পিতা গহর গাজী (৩) সাত্তার মোল্লা পিতা লোকমান (৪) গোলাম মোস্তফা পিতা লোকমান ( ৫)আবুল কালাম পিতা ময়নদিন এই ৫ টি পরিবারের প্রায় ৫০ জন সদস্যকে হতাশায় দিন কাটানোর পরিবেশ সৃষ্টি করে চলেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খলিল গাজী জানান, এখানে পূর্ব পুরুষ হতে বসবাস করে আসছি। বাক্কার গাজীর কারনে আমরা এখানে বসবাস করা বড়ই কষ্ট কর হচ্ছে। যেখানে সেখানে বিচারের ডাক দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্য আছি।
ভুক্তভোগী হালিমা বলেন, আমরা জানতে পারি যে বাক্কার চাচা এই জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে ৪০১ দাগের মধ্যে আমি ও ফতেমা ০৫ শতক করে মোট ১০ শতক জমি ডি সি আর নেয়। আমি বিধবা। এখন আমাদের নানান জায়গায় বিচারের জন্য ডাকাডাকি করছে গত কয়েক দিন আগে মুন্সীগঞ্চ ইউ পি তে বিচার হলো। এভাবে নানান রকমের তালবাহানা করে যাচ্ছে ।
ভুক্তভোগী সাত্তার মোল্লা জানান, আবু বাক্কার আমার চাচা বিভিন্ন সময়ে আমি তার বিপদ আপদে ছুটে যাই। আবু বাক্কার গাজী গত ২০১৯ সালে আমার নিকট হতে ২ লক্ষ টাকা নেয় জমি দিবে বলে, এখন জমি লিখতে শ্যামনগর উপজেলায় যাওর পর জানতে পারলাম বাক্কার চাচার এই জমি বন্দোবস্তের জমি এটি বিক্রয় হবে না। চাচা আমার নিকট হতে নেওয়া টাকার জন্য ৩টি ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেয়। চাচা এই বিষয়টি এখন অন্য ভাবে বলে বিভিন্ন জায়গায়। বাক্কার গাজী আমাদের এই ৫ টি পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অশান্তি বাধিয়ে রাখছে।
এই বিষয়ে বন্দোবস্ত দলিলের গ্রহীতা আবু বাক্কার গাজীর নিকট জানতে চাইলে বলেন, আমি বন্দোবস্ত নিয়ে বসে আছি, আমার জমির পরিমান ৫০ শতক। এর মধ্যে ৩৩ শতকের মধ্যেই মাত্র ৫ শতক জমিতে আমি বসে আছি, আমার জমির উপর অন্য শরীকদার জোর করে বসে ঘরবাড়ী তৈরী করে দখল করে আছে। তারা নানান সময়ে খারাপ করছে। আমি কতৃপক্ষের নিকট দাবী যাহাতে আমার বন্দোবস্ত জমির উপর ভোগদখল করে আসতে পারি।
এ বিষয় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকতা আয়নুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন অভিযোগ পায় নাই, তবে আমার কতৃপক্ষের নিকট আবেদন করলে।
কতৃপক্ষ যদি বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করে তাহলে আমি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পারি। তাছাড়া বিষয়টি ১৯৯০ সালের বন্দোবস্ত দলিলের জমি। আমার দায়িত্ব পালনকালের বিষয় না।
এটা সম্পর্কে আমার জানা নেই। বিষয়টির ব্যবস্থা পেতে ঐ ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট দাবী জানান
