হোম অন্যান্যসারাদেশ শৈলকুপায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুপিবাতি বিলুপ্তির পথে

শৈলকুপায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুপিবাতি বিলুপ্তির পথে

কর্তৃক
০ মন্তব্য 142 ভিউজ

 টিপু সুলতান  (ঝিনাইদহ) শৈলকুপা :
আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে আবহমান গ্রাম বাংলার এক সময়ের কুপিবাতি এখন শুধুই স্মৃতি। মাত্র ৮/১০ বছর আগেও গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে অতি প্রয়োজনীয় কুপি বাতি আজ বিলুপ্তির পথে। সন্ধা হলেই ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও গ্রাম্য বাজারে কুপির মিটমিট আলোয় চেনা যেত হাট বাজারসহ গ্রামের সেই চিরচেনা রুপ। আগের দিনের মানুষের ছিল নানা ধরনের বাহারি কুপি। সেই কুপিই ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারণের একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু কালের আবর্তে আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে সেই কুপি বাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বাহারী বৈদ্যুতিক বাল্ব, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট, মোবাইল লাইটসহ আরো অনেক কিছু। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শনটি। তৎকালিন সময়ে মানুষ মাটি, বাঁশ, লোহা, কাঁচ আবার কোনটি তৈরী করতো পিতল দিয়ে। সামর্থ্য অনুযায়ী লোকজন কুপি কিনে সেগুলো ব্যবহার করত। শৈলকুপা বাজার সহ সাধারণত উপজেলার ছোট বড় বাজারের দোকানে বিভিন্ন ধরনের কুপি পাওয়া যেত। কুপি হতে বেশি আলো পাওয়ার জন্য ছোট কুপি গুলোর জন্য কাঠ, মাটি বা কাঁচের তৈরি গজা বা স্ট্যান্ড ব্যবহার করা হতো। এই গজা বা স্ট্যান্ডগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের। কিন্তু বর্তমানে গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় সেই কুপিবাতি হারিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও অবশিষ্ট সময় মানুষ বর্তমানে ব্যবহার করছে বিভিন্ন ধরনের চার্জার লাইট ও মোমবাতি। এবিষয়ে শৈলকুপা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইংরেজি ‘দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট’ পত্রিকার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আধুনিক বৈদ্যুতিক যুগে বর্তমানে কুপিবাতির স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, চার্জার লাইট, টর্চ লাইট, মোবাইল লাইটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক বাহারী যন্ত্র। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শনটি। আগের দিনে কুপিবাতি জ¦ালিয়ে পড়াশোনা, পুথি পাঠ, কেচ্ছা কাহিনীর নানা গল্প হতো। তবে সময়ের পরিবর্তনে এসব আর চোখে পড়ে না। ফলে এমন সময় আসবে যখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের কুপিবাতি চেনানোর জন্য জাদু ঘরে নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, গ্রামের অধিকাংশ লোকের কাছে কুপির কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেক লোক আছে যারা আঁকড়ে ধরে আছেন কুপির সেই স্মৃতি। গ্রামের সৌখিন গৃহস্ত বাড়ি ও অনেক নি¤œ আয়ের মানুষ স্বযতেœ কুপিবাতি সংরক্ষন করে রেখেছেন নিদর্শন হিসেবে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন