নিউজ ডেস্ক:
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ শাকসু নির্বাচন নিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আটজন কমিশনার উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ উদ্দিন বলেন,
‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আটজন শিক্ষক কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষকও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ মো. আতিকুল হক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শাকসু নির্বাচন কমিশনে মোট ১৫ জন কমিশনার ছিলেন। এর মধ্যে ৮ জন আজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পদত্যাগপত্র উপাচার্যের কার্যালয়ে জমা হয়েছে।
কারা কারা পদত্যাগ করেছেন, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। তবে অধ্যাপক রেজোয়ান আহমেদ (শাওন) পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আর পালন করতে চাই না।’
এদিকে নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনের দাবিতে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপটার সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
পরে সংবাদ সম্মেলনে ইউটিএলের সদস্যসচিব মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রিটের রায় যদি নির্বাচনের বিরুদ্ধে আসে, তাহলে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। নির্বাচন যথাসময়েই হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, কিছু শিক্ষক অসহযোগিতা করলেও শাকসু নির্বাচন বানচাল হবে না।
কমিশনারদের পদত্যাগের খবরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভরত প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন। পরে বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে তারা সিলেট–সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’-এর সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান বলেন, ‘নির্বাচন যথাসময়েই হতে হবে। কমিশন থেকে আটজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন—এই খবরের পর আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর হবে।’
শাকসু প্রার্থীদের সঙ্গে দুপুর একটায় প্রশাসনের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিটের ফল নেতিবাচক হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।’
এর আগে সকাল সোয়া ১০টা থেকে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিটের বিরুদ্ধে প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে অংশ নেয় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
