হোম আন্তর্জাতিক শতাধিক গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মিয়ানমারে আবারও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। বিদ্রোহী দমনের নামে নতুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি উপাসনালয়ও।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিরোধীদের দমনে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক গ্রাম হয় সম্পূর্ণ, না হয় আংশিক ‍পুড়িয়ে দিয়েছে। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মিয়ানমারের ইরাবতি নদীতীরবর্তী সাগাইং অঞ্চলের একটি গ্রামের বর্তমান চিত্র। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই ধ্বংসযজ্ঞ। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে জান্তা বাহিনী।

গণতন্ত্রপন্থিদের দমনের নামে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর এক গ্রাম। সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, গত কয়েক দিনে একশর বেশি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে কয়েক হাজার বাসিন্দা। জান্তা বাহিনীর ধ্বংস থেকে রক্ষা পায়নি উপাসনালয়ও।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই ধ্বংসযজ্ঞের সত্যতা নিশ্চিত করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। তাদের স্যাটেলাইটেও উঠে এসেছে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চিত্র। এর আগেও বেশ কয়েকবার একই ধরনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। মধ্যাঞ্চলীয় সাগাইং অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিতে সেনাবাহিনী যে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ কাজে লাগাচ্ছে, উপগ্রহের ছবিগুলো এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণও।

‘এটা আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযান। আপনি যদি এমন কোনো এলাকা বা গ্রামে বাস করেন, যেটিকে সামরিক জান্তা তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নেওয়াদের সমর্থক মনে করে, তাহলে তাদের দৃষ্টিতে আপনিও তাদের শত্রু,’ বলেছেন মিয়ানমারের মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ।

তিনি জানান, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও আরও অনেকের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তার, যারা তাকে বাস্তবিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে।
ডেটা ফর মিয়ানমার বিবিসি ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের যেসব প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছে, সেগুলোতে ডিসেম্বর থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রামে সেনাবাহিনী ও সামরিক সরকারপন্থি মিলিশিয়ারা আগুন দিয়েছে বলে বলা হয়েছে।

বৌদ্ধ-অধ্যুষিত মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় গ্রামগুলোতে আগে কখনোই আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা দেখা যায়নি। গত বছর অঞ্চলটিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জান্তাবিরোধীদের ঐক্যের সরকারের (এনইউজি) সশস্ত্র শাখা পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর তুমুল লড়াই হয়েছে।

জান্তা এনইউজি ও পিডিএফকে বেআইনি ঘোষণা করেছে, তাদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করছে। এসব বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও জান্তার মুখপাত্র সাড়া দেননি, জানিয়েছে রয়টার্স।

সাধারণ মানুষের ওপর দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার তথ্যমতে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতন্ত্রপন্থিদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন শুরু করে সেনাবাহিনী। চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ৫২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন