হোম খুলনানড়াইল লোহাগড়ায় জেলেদের ৬০টি গরু ‘নিখোঁজ’ তথ্য দিতে নারাজ মৎস্য কর্মকর্তা

লোহাগড়ায় জেলেদের ৬০টি গরু ‘নিখোঁজ’ তথ্য দিতে নারাজ মৎস্য কর্মকর্তা

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 43 ভিউজ

নড়াইল প্রতিনিধি: 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ৬০টি বকনা গরুর কোনো হদিস মিলছে না। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকা বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে চরম গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান।

চলতি অর্থ বছরে দেশীয় প্রজাতির মাছ শামুক সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬০টি বকনা গরু প্রয়োজনীয় গোখাদ্য বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব গবাদিপশু প্রকৃত জেলেদের মাঝে হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে কাদের গরুগুলো দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের লক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকরা সুবিধাভোগীদের তালিকা বিতরণের বিস্তারিত জানতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের কার্যালয়ে গেলে তিনি অসহযোগিতা করেন। সাংবাদিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা না করে উল্টো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।িএ 

বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান সাংবাদিকদের বলেন,”৬০টি বকনা গরু জেলেদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে আমার কাছে বর্তমানে সুবিধাভোগীদের কোনো তালিকা নেই। তালিকা আমি প্রজেক্ট অফিসে জমা দিয়ে দিয়েছি। আমি আপনাদের কোনো তালিকা দিতে পারবো না।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছে নিজ দপ্তরের চলমান প্রকল্পের তালিকা না থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের গরু না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে অথবা অনৈতিকভাবে বণ্টন করা হয়েছে।

বিষয়ে নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি এইমাত্র আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের তালিকা অবশ্যই উপজেলা মৎস্য অফিসে থাকার কথা। কেন তিনি সাংবাদিকদের তালিকা দিচ্ছেন না, তা আমি খতিয়ে দেখব এবং কথা বলে আপনাদের জানাব।

সরকারি প্রকল্পের ৬০টি গরু বিতরণে এমন অস্বচ্ছতা এবং কর্মকর্তার রহস্যজনক আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে সরকারের লক্ষ্য প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন, সেখানে প্রকল্পের তথ্য গোপন করার পেছনে মূল রহস্য কী? তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন