জাতীয় ডেস্ক :
লাশ পোড়ার গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাতাস। বেসরকারি একটি কন্টেইনার ডিপোতে আগুনের পর ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৪৫ হয়েছে। ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন শতাধিক।
স্বজন হারানো মানুষের কান্না ও আকুতিও থামছে না। হতাহতদের সহায়তা এগিয়ে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
সময় সংবাদের ফেসবুক পেজের পাঠকদের মন্তব্যে সেই বেদনাই যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তারা বলছেন, বিস্ফোরণে ক্ষয়ক্ষতি এক সময় পূরণ করা সম্ভব হলেও যেসব মানুষ মারা গেছেন, তাদের ফিরে পাওয়া যাবে না। কিংবা যারা পঙ্গু হয়ে গেছেন, তাদের দুর্বিষহ জীবনে কেউ স্বাভাবিকতা এনে দিতে পারবেন না।
শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে বিএম ডিপো নামের কন্টেইনার টার্মিনালে। পরে রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এত বহুদূর পর্যন্ত কেঁটে ওঠে।
ফেসবুক মন্তব্যে নাঈমা নওরিন নামের এক নারী বলেন, এসব ক্ষয়ক্ষতি চাইলেই মেটানো সম্ভব, অসম্ভব কিছুই না। অসম্ভব শুধু হারিয়ে যাওয়া প্রাণগুলো ফিরে পাওয়া, অসম্ভব পঙ্গুত্ব বরণ করা মানুষগুলোকে সুস্থ-সবল করা। তাই ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে না ভেবে যারা বেঁচে আছেন, তাদের বাঁচান—তাদের পরিবারকে বাঁচান।
এ বিপর্যয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন সব ধরনের মানুষ। নিজেদের সম্বল নগণ্য হলেও তা-ই নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সবাই। এমডি আরিফুল ইসলাম নামের এক পাঠক বলেন, রিকশা, সিএনজি ও বিভিন্ন গাড়ির চালকেরা ভাড়া নিচ্ছেন না। বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছে ফার্মেসিগুলো। রক্ত দিতে অপেক্ষারত হাজার হাজার মানুষ। শারীরিক শ্রম দিচ্ছেন শতশত স্বেচ্ছাসেবক। যে যেভাবে পারছেন, খাবার পানি সরবরাহ করছেন। দলমত নির্বিশেষে এগিয়ে এসেছে সবাই। চট্টগ্রাম আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা লাইভ সম্প্রচার করতে আসা অলিউর রহমান নামে এক তরুণও মারা গেছেন বিস্ফোরণে। তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক)। সময়নিউজে এ খবর পড়ে রবিউল ইসলাম রিসাদ নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, ৩৩ মিনিট আগে সক্রিয় থাকা মানুষটার জন্য এখন খবর খোঁড়া হচ্ছে। মৃত্যু কী ভয়ানক!
আলী হোসেন নামের একজন বলেন, বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার অপর নাম প্রাণের চট্টগ্রামবাসী—আজ প্রমাণিত। যে সব সেচ্ছাসেবী সংগঠন এ-বিপদে এগিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি চট্টগ্রামবাসী আজীবন চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন।
কেউ কেউ আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন, যাতে আহতরা সুস্থ হয়ে উঠেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। রেজাউল করিম বাদল নামের একজন আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন, হে আরশের মালিক, তোমার কাছে আর্জি, তুমি সবাইকে হেফাজত কর, যারা আহত হয়েছেন, তাদেরকে তাড়াতাড়ি সুস্থতা দান কর, আর যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের শহীদি মর্যাদা দাও।
আর কন্টেইনার মালিকপক্ষকে দায়ী করে এস এম রবিউল ইসলামের নামের একজন বলেন, ঘটনা হলো প্রথমে আগুনে রাসায়নিকের কথা গোপন ছিল। তাই পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের প্রাণহানি ঘটেছে।
আর বাঁধন এসএ নামের একজন জানান, ঘটনাস্থল থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব মাত্র আধা কিলোমিটার। অগ্নি বিস্ফোরণের এত তীব্র আওয়াজ আগে কখনো শুনিনি।
বড় বড় আগুন নেভাতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তৌহিদ ইসলাম তাকদির বলেন, সীতাকুণ্ডের আগুন যে কতটা ভয়াবহ ও ঝুঁকিপূর্ণ—তা বলে বোঝানো যাবে না। আল্লাহ সবাইকে হেফজাত করুন।
আবার কেউ কেউ রক্ত চেয়েও সময়সংবাদের ফেসবুক পেজের খবরের নিচে এসে মন্তব্য করছেন। তানজিন রিম নামের একজন বলেন, স্বেচ্ছাসেবীদের উচিত ছিল রাস্তায় দাঁড়ানো, যাতে যানজট না বাঁধে। কারণ অনেকেই হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছে না।
