খেলাধূলা ডেস্ক :
ফুটবলপ্রেমীরা শঙ্কায় ছিল ইতালি ও পর্তুগালের মধ্যে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে ধরবে কাতার বিশ্বকাপের বিমান। কিন্তু সব শঙ্কা উড়িয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইউরোপ অঞ্চলের প্লে-অফের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিল ইতালি। অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল প্লে-অফের ফাইনালে পা রেখেছে। লড়াইয়ে ইতালি ছিটকে পড়ায় তারা যতটা নির্ভার, তার চেয়ে বেশি আতঙ্কিত আজ্জুরিদের দুঃস্বপ্ন উত্তর মেসিডোনিয়াকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে।
ইউরোপ অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সরাসরি কাতারের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি পর্তুগাল ও ইতালি। তবে তাদের জন্য শেষ আশা হয়ে ছিল প্লে-অফের ম্যাচ।
সেখানেও বিশ্বকাপের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার দল। তবে তুরস্ককে হারিয়ে স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছে পর্তুগাল। আর একটি ম্যাচ জিতলেই তারা পৌঁছে যাবে স্বপ্নের বিশ্বকাপে। আগামী ২৯ মার্চ সেই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইতালির দুঃস্বপ্ন উত্তর মেসিডোনিয়া।
এদিকে একবিংশ শতাব্দীর ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। পর্তুগিজ তারকার বয়সটা এখন ৩৭ বছর। যে বয়সে খেলোয়াড়রা অবসরের কথা চিন্তা করেন, সে বয়সেও রোনালদো ৯০ মিনিট ১৩০ গজ দাপিয়ে বেড়ান।
সেই ২০০৬ সাল থেকে শুরু, ২১ বছরের তরুণ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৫ গোল করে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। এরপর একে একে ইউরোপ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই থেকে তার দেশ কোয়ালিফাই করেছে ২০১০, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে। অথচ ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে রোনালদো বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন না–সেটা হয়তো অনেক ফুটবলপ্রেমীই মানতে পারবেন না। ফুটবল ক্যারিয়ারে অনেক প্রাপ্তি থাকলেও শেষ বিশ্বকাপ খেলতে না পারার যন্ত্রণাটা নিজেও সহ্য করতে পারবেন না রোনালদো।
তাই ইতালির বদলে মেসিডোনিয়াকে পেয়েও নির্ভার থাকতে চান না পর্তুগিজ স্ট্রাইকার। নিজের ইনস্টাগ্রামে রোনালদো লেখেন: ‘আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এক ধাপ এগিয়েছি। এখনো কোনো কিছু জয় করিনি, কোনো কিছু অর্জন করিনি। প্রতিপক্ষকে সমীহ করতে হবে। তবে বিশ্বাস রাখতে হবে আমাদের যোগ্যতার ওপর। পর্তুগাল শক্তি, গন্তব্য কাতার।’
এদিকে মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে এখনো কোনো ম্যাচ হারেনি পর্তুগাল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের মধ্যে বিস্তর ফারাক। র্যাঙ্কিংয়ে রোনালদোদের অবস্থান শীর্ষ আটে, অন্যদিকে মেসিডোনিয়া অবস্থান করছে ৬৭তম স্থানে। মাঠের শক্তি বা অতীত পরিসংখ্যান সবকিছুই বলছে, রোনালদোকে আরও একবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে পাবেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে শঙ্কার বিষয় একটাই–র্যাঙ্কিংয়ের ছয়ে থাকা ইতালিকে হারিয়েই ফাইনালে পা রেখেছে মেসিডোনিয়া। ফলে তাদের ছোট করে দেখার কিছু নেই।
