আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ায় সেনা পাঠাচ্ছে চীন। এতে ভারত, বেলারুশ, মঙ্গোলিয়া, তাজিকস্তানসহ অন্য দেশের সেনারাও যোগ দেবে। বুধবার (১৭ আগস্ট) চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।
চীন জানিয়েছে, যৌথ সামরিক মহড়ায় চীনের এই অংশগ্রহণের সঙ্গে বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।
গেল মাসে ভস্তক (পূর্ব) সামরিক মহড়ার আয়োজনের ঘোষণা দেয় মস্কো। ৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মহড়া চলবে বলে জানা গেছে। যদিও ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লালিদিমির পুতিন।
এই মহড়ার মাধ্যমে রাশিয়া এই বার্তা দিতে চাচ্ছে যে, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ সত্ত্বেও পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তায় এখনো তাদের নজর রয়েছে। অর্থাৎ বিরূপ পরিস্থিতি সত্ত্বেও নিজেদের সহজাত সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতেই এই মহড়ার আয়োজন করছে রাশিয়া।
এরআগে ২০১৮ সালে এ রকম একটি সামরিক মহড়ার আয়োজন করেছিল মস্কো। তখন তাতে প্রথমবারের মতো অংশ নেয় চীন।
বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে চীনা সামরিক বাহিনী এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। অংশ নেয়া দেশগুলোর সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাস্তবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা গভীর করাই তাদের উদ্দেশ্য।
এছাড়া দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কের স্তর নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকির জবাব দেয়ার সক্ষমতা জোরদার করতে তারা এই মহড়ায় যোগ দিচ্ছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অধীন দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা ক্রমাগত বাড়ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের অল্প কয়েকদিন আগে বেইজিং ও মস্কো সীমাহীন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছিল।
যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা চীন লঙ্ঘন করছে বলে তাদের কাছে মনে হয়নি। কিংবা রাশিয়াকে কোনো সামরিক সহায়তার খবরও তাদের কাছে নেই।
