জাতীয় ডেস্ক :
রংপুরে গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ পুরাতন কাপড়ের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
শীত বেড়ে যাওয়ায় সোমবার (৯ জানুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। শীত থেকে রক্ষা পেতে নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য কাপড় কিনছেন তারা। তবে তবে দাম বেশি হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন ক্রেতারা।
নগরীর পুরাতন মার্কেটের জন্য বিখ্যাত জামাল মার্কেটে গিয়ে কথা হয় কলেজ শিক্ষার্থী মতিউর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, এই মার্কেটে স্বল্পমূল্যে গরম কাপড় পাওয়া যায়। বিশেষ করে জ্যাকেট, হুডি, মাফলার, টুপি কিন্তু এখানে এসে দেখা যায় প্রতিটি কাপড়ই চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
মতিউর আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পোশাক। এ কারণে অনেকে চাইলেও কিনতে পারছে না।
নগরীর স্টেশন এলাকার গরম কাপড়ের মার্কেটে জ্যাকেট কেনার জন্য কাঙ্ক্ষিত জ্যাকেট খুঁজছিলেন তাসনিম আরা। পরে শেষ পর্যন্ত ৬৭০ টাকায় জ্যাকেট কেনেন। তিনি বলেন, গত বছর যে জ্যাকেট ২৫০ টাকায় কিনেছি সেই জ্যাকেটই এবার কিনতে হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপরে।
বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানির ক্ষেত্রে গরম কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
মফিজুল ইসলাম নামে এক বিক্রেতা বলেন, গত বছর গরম কাপড়ের গাইট কেনা হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। এ বছর দাম বেড়ে সেই গাইট ১৪ থেকে ১৮ হাজার টাকায় কিনেছি। আমরা চাইলেও কম রাখতে পারছি না, কারণ আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। ক্রেতারা অনেকেই পছন্দ করছেন কাপড় কিন্তু দামে না মেলায় তারা ফিরে যাচ্ছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে রোববার ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা চলমান থাকতে পারে।
