হোম আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির আলোচনায় পাকিস্তানের ওপর কেন ভরসা রাখল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

যুদ্ধবিরতির আলোচনায় পাকিস্তানের ওপর কেন ভরসা রাখল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 42 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-কে “প্রিয় ভাই” সম্বোধন করে তাদের অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

এই বার্তাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করেন, যা শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকায় ওয়াশিংটনের সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।

শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে ঘোষণা দেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

তিনি ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য দুই পক্ষকে আমন্ত্রণ জানান, যা “ইসলামাবাদ আলোচনা” নামে পরিচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হওয়ার আগে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আসিম মুনিরের সঙ্গে কথা বলেন।

একই সময়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং আরাগচির মধ্যে রাতভর যোগাযোগ চলে যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা কেন সফল হলো?

পাকিস্তান এই মধ্যস্থতায় সফল হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে: ইরানের সঙ্গে সরাসরি সীমান্ত ও দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থান। এ কারণে ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বার্থ কেন জড়িত?

পাকিস্তানের জন্য এই যুদ্ধবিরতি শুধু কূটনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার বিষয়ও। এর কারণগুলো হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি নির্ভরতা, প্রবাসী আয়ের বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আসে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনা

সামনে ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে

এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নড়বড়ে। যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়: পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, উভয় পক্ষই ইসলামাবাদকে দায়ী করতে পারে ও নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তান কঠিন ভারসাম্য সংকটে পড়বে। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এখনই এটিকে স্থায়ী সাফল্য বলা যাচ্ছে না।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন