হোম আন্তর্জাতিক মৃত্যু বেড়ে ১৪১, গুজরাটের ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ল যে কারণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মোরবিতে ঝুলন্ত একটি সেতু ভেঙে নদীতে পড়ে এখন পর্যন্ত ১৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। কিন্তু কীভাবে ঘটল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা?

বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভাড়া করা সংস্থা অজন্তা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাইভেট লিমিটেড নির্ধারিত সময়ের আগেই জনসাধারণের জন্য সেটি উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। যা এ দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ।

মোরবি শহর কর্তৃপক্ষ এবং অজন্তা ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের মধ্যকার চুক্তি পর্যালোচনা করে এনডিটিভি বলছে, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য সেতুটি কমপক্ষে ৮ থেকে ১২ মাস বন্ধ রাখার প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু গুজরাটি নববর্ষ উদযাপনের আগে গেল ২৬ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ঔপনিবেশিক যুগের ঐতিহাসিক ওই সেতুটি।

অজন্তা নামের সংস্থাটি নাগরিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফিটনেস সনদ না নিয়েই সেতুটি খুলে দেয় বলে রোববার (৩০ অক্টোবর) এনডিটিভিকে নিশ্চিত করেছেন মোরবি পৌর সংস্থার প্রধান সন্দীপসিংহ জালা।

এমনকি সেতুটির ওপর ওঠার জন্য ওরেভা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান অজন্তা ম্যানুফ্যাকচারিং কর্তৃপক্ষ ১৭ রুপি করে টিকিট ব্রিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। তড়িঘড়ি করে পুনরায় খুলে দেয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত প্রতিটি নিরাপত্তা নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, রোববার সন্ধ্যায় তার ছিড়ে ঝুলন্ত সেতুটি যখন নদীতে ভেঙে পড়ে, তখন এর ওপর নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০০ মানুষ ছিল। যেখানে সেতুটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১২৫ জন।

সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং টিকিট বিক্রির জন্য মোরবি পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি রয়েছে ঘড়ি প্রস্তুতকারক হিসেবে পরিচিত সংস্থা অজন্তার। তবে সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে সেতুটি জনগণের জন্য খুলে দেয়া হলো, তা স্পষ্ট নয়।

ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়াই সেতুটি কেন খুলে দেয়া হলো, এনডিটিভির পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলেও তা এড়িয়ে গেছেন গুজরাটের মন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি। সেতু ভেঙে পড়া এবং এর কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে গুজরাট সরকার।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন