জাতীয় ডেস্ক :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুটি স্থানে একযোগে বিএনপির মশাল মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও রাস্তায় অগ্নিসংযোগ করে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক দেবাশীষ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ২১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সে হিসেবে মামলাটিতে মোট আসামি করা হয়েছে ৫৬ জনকে। তবে এজাহারে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে বৃহস্পতিবার বিএনপির মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারীসহ ককটেল বিস্ফোরণকারী ও রাস্তায় অগ্নিসংযোগকারীদের আমরা শনাক্ত করছি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি এবং অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা করছি। এ ছাড়া মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে থানা পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও শহরে তিনটি স্থানে একযোগে মশাল মিছিল করে তাণ্ডব চালান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জে মশাল মিছিলকারীরা একপর্যায়ে বেশ কয়েকটি টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে মহাসড়কে প্রায় আধঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মহাসড়ক থেকে আগুনে পোড়ানো টায়ারগুলো সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
একই সময়ে শহরের বঙ্গবন্ধু রোডে হক প্লাজার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় এবং সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার সস্তাপুর এলাকায় কমর আলী স্কুলের পাশে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মশাল মিছিল করে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ করতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা থানায় আরও দুটি পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
