হোম আন্তর্জাতিক মার্কিন চোখ রাঙানি সত্ত্বেও আরও এস-৪০০ কিনবে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো আপত্তি থাকলেও তাতে পাত্তা না দিয়ে আরও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের কথা বিবেচনা করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

সম্প্রতি সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তুরস্ককে নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে।

সাংবাদিক মার্গারেট ব্রেননানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমেরিকান-নির্মিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ের কোনো বিকল্প সুযোগ রাখা হয়নি তুরস্কের জন্য। ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আমাদেরকে হস্তান্তর করা হয়নি।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) এরদোগানের পুরো সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারের আগে তার সংক্ষিপ্ত একটি অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বের করে দিয়ে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয়ের পর আংকারাকে সাজা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় নিয়ে জোরালো আপত্তি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তুরস্ক বলছে, ন্যাটো ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় না করেই তুরস্ক স্বাধীনভাবে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। এতে তা ন্যাটোর জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।

রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় ২০১৭ সালের একটি আইনের অধীন ২০২০ সালে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কোনো মার্কিন মিত্রকে সাজা দিতে এই প্রথম আইনটির ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন।

তুরস্ক আরও এস-৪০০ কিনবে কিনা জানতে চাইলে এরদোগান স্পষ্টভাষায় বলে দেন, অবশ্যই, অবশ্যই। আমরা আরও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনবো। নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তুরস্ককে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নিউইয়র্কেরে উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এরদোগান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে শুরুটা ভালো হয়নি। যদিও তার ১৯ বছরের তুর্কি শাসনে অন্যান্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক কাটিয়েছেন বলে দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি সততার সঙ্গে বলতে পারছি না—তুরস্ক-আমেরিকার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করবে তুরস্ক।

এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও তুরস্ক-আমেরিকার সম্পর্কের আরও একটি বড় বাধা হচ্ছে—সিরীয় কুর্দিশ যোদ্ধাদের মার্কিন সমর্থন। কুর্দিদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করে আসছে তুরস্ক। ২৯ সেপ্টেম্বর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন এরদোগান।

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন