জাতীয় ডেস্ক :
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত একমাস ধরে নদী ভাঙনে উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের কয়েকশ বসতবাড়ি, পাকা রাস্তা, হাট-বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, প্রাইমারি স্কুলসহ নানা স্থাপনা চলে গেছে নদীগর্ভে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে মধুমতি নদীর ভাঙনে পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের নারানদিয়া ও চরনারানদিয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে চলে গেছে ৮০ বসতবাড়ি, কয়েকশ একর ফসলি জমি, ১টি মসজিদ, ১টি মাদ্রাসা, ঈদগাসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
তিনি জানান, বিভিন্ন সময় ভাঙনরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে ভাঙনের তীব্রতা কমেনি। এ বছর নদী ভাঙন ব্যাপকভাবে শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তরফ থেকে কিছু বালির বস্তা ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এছাড়া বালির বস্তা ফেলে নদী ভাঙনরোধ সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কথা বললেও এ ধরনের প্রকল্প না থাকায় তা করা যাচ্ছে না বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, মধুমতি নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে গতকাল সকালে মানববন্ধন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ ও স্থানীয়রা। পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চরনারানদিয়া গ্রামের মধুমতি নদী তীরে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ নারী পুরুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন পাঁচুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ এর কো-অডিনেটর জব্বার সরদার, মো. ফয়সাল, সালিমুল হক সাগর, এইচ এম মামুন, আরাফাত সিকদার ও মো. তারিকুল ইসলাম।
এসময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর যাবত মধুমতি নদীর ভাঙনে পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম বিলীন হলেও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
