জাতীয় ডেস্ক :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের ১৫টি বাড়ির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সোমবার (০৪ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় বিগত পৌর নির্বাচনে ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত মোশাররফ হোসেন মিন্টু মিয়া ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত মোশাররফ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, নির্বাচনের পর থেকে ওই দুই প্রার্থীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গণটিকা কার্যক্রম চলাকালে দুই মোশাররফের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপে কার্যক্রম শুরু হয়। সোমবার সকালে মোশাররফ হোসেন মিন্টুর সমর্থক মহসিনকে মারধরসহ তার বাড়িতে হামলার অভিযোগে দুই পক্ষের সমর্থকের মাঝে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মোশাররফ হোসেন মিন্টু মিয়া বলেন, সে (মেশাররফ মিয়া) নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। আমি কীভাবে কাউন্সিলরগিরি করি তাও দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় সে। গত ২৮ তারিখে গণটিকা কার্যক্রমে সে বাধা দেয়। আজ সকালে আমার এক সমর্থককে মারধর করেছে। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আমি থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।
মোশাররফ মিয়া বলেন, টিকাপ্রদান কার্যক্রম নিয়ে কিছু অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার (মোশাররফ হোসেন মিন্টু) সঙ্গে আমার কথা-কাটাকাটি হয়। তারই জেরে আজ পরিকল্পিতভাবে কয়েকশ লোকজন নিয়ে সে আমার বাড়িতে হামলা করে এবং আমার সমর্থকদের বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আমি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় মারমুখী জনতাকে মৃদু লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
