হোম আন্তর্জাতিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কড়া নির্দেশ ভারতের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কড়া নির্দেশ ভারতের

কর্তৃক Editor
০ মন্তব্য 48 ভিউজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করতে হবে।

মূলত যে সমস্ত জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে অর্থ প্রদান করেছে, সেই জমিগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমানার স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের বিলম্বকে আদালত উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একটি বড় অংশ অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, যা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগ করা হয়েছিল, কাঁটাতার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি হস্তান্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে।

এই প্রেক্ষিতে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেন দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে না। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের মতো দাপ্তরিক অজুহাত দেখিয়ে এই অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানোর লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারকে অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকায় এখনো রাজ্য মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় পক্ষকেই বিস্তারিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতিরা মনে করেন, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই কোনো আইনি জটিলতা যেন এই নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে রাজ্যকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পটিতে নতুন করে গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত আগামী ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যেখানে জমি হস্তান্তরের অগ্রগতির বিষয়ে রাজ্যকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশের ফলে বিএসএফ এখন তাদের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবে, যা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক বড় পরিবর্তন আনবে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর জন্য এই পদক্ষেপটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছিল।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন