জাতীয় ডেস্ক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার আলোচিত মাদক সম্রাট মো. জুয়েল মিয়াকে (৩০) মাদক মামলায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ মামলা করার দুই মাসের কম সময়ে এই রায় দেন। সাজাপ্রাপ্ত জুয়েল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার উত্তর চকবস্তা গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে। আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র, মাদক, হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় সে পলাতক ছিল। চলতি বছরের ১১ জুন তাকে কুমিল্লা জেলা শহরের কান্দিরপাড় থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৪-এর একটি দল।
গ্রেফতারের পর র্যাব তাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অভিযান চালায়। এ সময় জুয়েলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ি থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলভার এবং ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরদিন ১২ জুন র্যাবের এসআই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে কসবা থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি পরে জেলা গোয়েন্দা শাখায় স্থানান্তরিত হয়। এই মামলা করার মাত্র ১৪ দিনের মাথায় গত ২৬ জুন জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির পক্ষ থেকে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরে মামলাটি পর্যালোচনা করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে মাদক মামলায় অভিযুক্ত আসামি জুয়েল মিয়াকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। মামলা করার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সকল প্রক্রিয়া শেষে আদালত দ্রুততম সময়ে এ রায় দেন। এ মামলার অস্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বশির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা মামলাটি সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত দ্রুততম সময়ে বিচারকাজ শেষ করে এ রায় দিয়েছেন। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মামলায় অনেক ফাঁক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচার পেতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
