হোম অর্থ ও বাণিজ্য ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে অর্থমন্ত্রী নীরব কেন, প্রশ্ন রুস্তম আলী ফরাজীর

বাণিজ্য ডেস্ক :

ব্যাংকখাতে লুটপাট ও পুঁজিবাজারে নানা অনিয়ম নিয়ে সংসদে এবার অর্থমন্ত্রীর ওপর তোপ দাগলেন পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের লোকজনের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া কীভাবে টাকা তোলে? ম্যানেজার থেকে এমডি এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকও জানে। এদের সহযোগিতা ছাড়া টাকা নেয়া যায় না।

রুস্তম আলী বলেন, ‘একশ্রেণির ব্যবসায়ী ব্যাংকের পরিচালক কর্মকর্তাদের অনৈতিক নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ব্যাংকের টাকাগুলো নিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে ফ্রিস্টাইলে ঋণখেলাপি হওয়া, পরের টাকা নিয়ে পোদ্দারি, নয়ছয় করে পাচার করবে এরা, এটি মেনে নেয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধান করবে কে? আমাদের অর্থমন্ত্রী।’

তিনি আরও বলেন, ‘অথচ আমাদের অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজার নিয়েও কথা বলেন না, ব্যাংক নিয়েও কথা বলেন না, আর্থিক অবস্থা নিয়েও কথা বলে না। অর্থমন্ত্রী এসব বিষয়ে নীরব কেন? তিনি একজন অভিজ্ঞ মানুষ। কারা দেশের ব্যাংকখাত নিয়ে অপপ্রচার চালায়, কারা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠাতে নিষেধ করে? দেশের শত্রু কারা? তাদের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে অর্থমন্ত্রীকে। অথচ তিনি কথা বলেন না। আমি ফেডআপ (বিরক্ত)।’

যারা নয়ছয় করে টাকা পাচার করে তাদের চিহ্নিত করে, তাদের পরিচয় ও ছবি গণমাধ্যমে সরবরাহের পরামর্শ দিয়ে রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, মানুষ যাতে ঘৃণায় একটু থুতু নিক্ষেপ করতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে উদ্দেশ্য করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অর্থ পাচারের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিয়েছেন, দুদককে দায়িত্ব দিয়েছেন, এসব বললে হবে না। কার্যকর পদক্ষেপ নেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করলে জনগণের টাকা দেশে ফিরবে।

রুস্তম আলী ফরাজী আরও বলেন, আওয়ামী লীগের এক নেতাকে দেখলাম কানাডায় বেগম পাড়ায় গিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির হোমরাচোমরা নেতাদের বাড়ি খুঁজে বের করেছেন। সরকার চাইলে কি তাদের খুঁজে বের করতে পারবে না? সমাজের প্রভাবশালী, বড় ব্যবসায়ী, শীর্ষ আমলা, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতা এমপি-মন্ত্রী–এদের সবার টিআইএন নাম্বার সংগ্রহ করেন। এদের রিটার্নগুলো একটি সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করেন। এক-দুই বছর পর দেখবেন–কারা অবৈধভাবে টাকা পাচার করছে সব বেরিয়ে যাবে।

এ সময় তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নিয়েও সমালোচনা করেন। রুস্তম আলী বলেন, বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি সহযোগিতা ও অনুদান কমছে। এ অবস্থায় বাড়াতে হবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়। অথচ এনবিআর রাজস্ব আয় বাড়াতে পারছে না।

দেশে অন্তত তিন কোটি মানুষ কর দেয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেন রুস্তম আলী ফরাজী।

Khaleda

সম্পর্কিত পোস্ট

মতামত দিন