বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :
বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃক দুটি সিএন্ডএফ এজেন্টেস লাইসেন্স বাতিল ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যের নামে মামলা করায় রবিবার সকাল থেকে আমদানি-রফতানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন।
উল্লেখ্য গত ২ মার্চ ভারত থেকে বন্ড লাইসেন্স (শুল্ক মুক্ত) এর মাধ্যমে আমদানিকৃত ডেনিম ফেব্রিক্স এর ট্রাকে করে অবৈধভাবে আনা শাড়ি, থ্রিপিচ, মদ,ফেন্সিডিল. বিদেশী সিগারেট, ওষুধ, কারেন্ট জালসহ বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার সাথে ভারতীয় ড্রাইভার সরাসরি জড়িত থাকলেও ট্রাকসহ ড্রাইভারকে ছেড়ে দেয় কাস্টমস।
আমদানিকৃত ডেনিম ফেব্রিক্সের আমদানিকারক ঢাকাস্থ অনন্ত ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেড ও ফ্যাশান ফোরাম লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় গত বুধবার বেনাপোলের শিমুল ট্রেডিং এজেন্সী ও আইডিএস গ্রুপ নামে দুইটি সিএন্ডএফ লাইসেন্স বাতিল করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এক সিএন্ডএফ কর্মচারির নামেও মামলা করেন বেনাপোল পোর্ট থানায়।
এ ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স বাতিল ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মচারির নামে মামলা করে কাস্টমস। হয়রানি এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার সকালে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি এক যৌথ সভায় আমদানি-রফতানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত করে। লাইন্সেস পুর্ণবহাল ও মামলা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা দেয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, আসল অপরাধীদের চিহ্নিত না করে সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যের নামে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা করেছে কাস্টমস। মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আমদারী রপ্তানী সহ বন্দরের সকল ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার আব্দুর রশীদ মিয়া জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি বৈধ চালানের মধ্যে অবৈধভাবে আনা ফেনসিডিল, সিগারেট, ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন চোরাচালান পণ্যসহ বন্দর থেকে ভারতীয় একটি ট্রাক আটক করা হয়। এ অভিযোগে দুটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। অবৈধ পণ্য আমদানির অভিযোগে থানায় মামলাও করা হয়েছে।
